দারিদ্র্য বিমোচনের দুই কর্মসূচি কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও টেস্ট রিলিফের (টিআর) বিশেষ বরাদ্দের টাকায় গৃহহীনদের ঘর করে দেবে সরকার। এসব খাতের বিশেষ বরাদ্দের বেশিরভাগ টাকাই লুটপাট হয় বলে অভিযোগে রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই এ টাকা ঘর নির্মাণে কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
টিআর ও কাবিটার তহবিল থেকে মূলত সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বাইরেও বিভিন্ন পেশার সীমিতসংখ্যক মানুষকে বিশেষ বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। যে কাজের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেই কাজের বেশিরভাগই ভুয়া বলে তথ্য এসেছে মন্ত্রণালয়ে।
এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেসব ভূমিমালিকের ঘর তৈরি করার সামর্থ্য নেই, তাদের বিশেষ বরাদ্দের টাকায় ঘর করে দেওয়া হবে। একই ডিজাইনের এসব ঘরের নকশা তৈরির কাজ চলছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ৩২ হাজার ঘর দেওয়া হবে। পরবর্তী ছয় মাসে, অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৩২ হাজার ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। প্রতিটি ঘর তৈরি করতে ব্যয় হবে ৩ লাখ টাকা। প্রথম এক বছরে এ খাতে ব্যয় হবে ২০৮ কোটি টাকা।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মূলত টিআর ও কাবিটার বিশেষ বরাদ্দের অনিয়ম বন্ধ করার জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড
সদস্যরা সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করবেন। পরে সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ের একটি কমিটি পুরো কাজের তদারক করবেন। ঘরটি হবে শীত ও গরম প্রতিরোধক।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ কারণে এসব ঘরের নকশা শহরের বাড়িঘরের আদলে তৈরি করা হবে। এরই মধ্যে নকশার খসড়া করা হয়েছে। সেই নকশা অনুযায়ী প্রতিটি ঘরে দুটি শয়নকক্ষ থাকবে। এর সঙ্গে একটি শৌচাগার ও রান্নার কক্ষও থাকবে। নকশাটি আগামী ২৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত করা হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমাজের ৬৫ বছর-ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের এ ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।’
ঘর দেওয়ার এ কর্মসূচির চ্যালেঞ্জ কীÑ জানতে চাইলে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মূল চ্যালেঞ্জ সুবিধাভোগী বাছাই করা। খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছিল। চাল পাওয়ার কথা ছিল হতদরিদ্রদের। কিন্তু কর্মসূচির প্রথম দফার চাল চলে গিয়েছিল অনেক বিত্তশালীদের কবজায়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে তালিকা সংশোধন করে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ করা হয়েছে। চালের মতো বিশেষ বরাদ্দের টাকায় ঘর করে দেওয়ার উপকারভোগীদের চিহ্নিত করার কাজটিও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া উপকরণ পৌঁছানো আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ঘরটি তৈরি হবে বিশেষ উপকরণ দিয়ে। এসব উপকরণ পৌঁছানোও একটি চ্যালেঞ্জ।
ওই কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ বরাদ্দের ২০৮ কোটি টাকা খরচ করা হলেও এর কোনো পাইলটিং করা হয়নি। বিশেষ বরাদ্দের টাকায় ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ ২০১৮ সালেই নেওয়া হলেও তা শুরু করা সম্ভব হয়নি। নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘর তৈরির কাজটিকে অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছেন।
