ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর উল্টে পড়ল কয়লার ট্রাক

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:২০ এএম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি ইটের ভাটায় ভোররাতে কয়লা খালাসের সময় ট্রাক উল্টে টিনের ছাউনির ওপর পড়ে ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানিয়েছেন। হতাহতরা সবাই নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা কাজী অ্যান্ড কোং নামে আবদুর রাজ্জাক মজুমদারের ইটের ভাটার শ্রমিক।

তারা হলেন জলঢাকা উপজেলার সুরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র রায়, নূর আলমের ছেলে মোহাম্মদ মোরসালিন, ফয়জুল করিমের ছেলে কাইয়ুম, সুনীল চন্দ্র রায়ের ছেলে তরুণ চন্দ্র রায়, জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সেলিম (২৮), রাম প্রাসাদের ছেলে বিপ্লব (১৯), কিশোর চন্দ্র রায়ের ছেলে শংকর চন্দ্র রায় (২২), অমল চন্দ্র রায়ের ছেলে দীপু চন্দ্র রায় (১৯), কামিক্ষা চন্দ্র রায়ের ছেলে অমিত চন্দ্র রায় (২০), খোকা চন্দ্র রায়ের ছেলে মৃণাল চন্দ্র রায় (২১) ও বিকাশ চন্দ্র রায় (২৮), ধলু চন্দ্র রায়ের ছেলে কণক চন্দ্র রায় (৩৫) এবং একই উপজেলার শিমুলবাড়ী গ্রামের মনোরঞ্জন চন্দ্র রায়।

এ ঘটনায় আহত একই উপজেলার আরাজি শিমুলবাড়ী এলাকার প্রদার চন্দ্র রায়ের ছেলে বিষ্ণু (২৫), নিজপাড়া এলাকার হিজু (২০) ও রিপন আহম্মেদকে (২২) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আবদুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইটভাটর জন্য আনা একটি ট্রাক থেকে কয়লা খালাসের সময় তা উল্টে গিয়ে পাশের লেবার শেডের ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর পড়লে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে। ট্রাকের চালক ও তার সহকারীকে পাওয়া যায়নি।

ওই ইটভাটার কয়েকজন শ্রমিক জানায়, রাতে কয়লাভর্তি ট্রাকটি ইটভাটায় পৌঁছলেও শ্রমিকরা সকালে কয়লা খালাস করতে চেয়েছিল। কিন্তু মালিকের নির্দেশে তখনই তাদের কয়লা নামাতে বাধ্য করা হয়। মালিকপক্ষের অব্যবস্থার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানায়, অব্যবস্থাপনা ও সরকারি অনুমোদনের ঝামেলায় থাকা ইটভাটাটি তৈরি করেন এমরান। তার কাছ থেকে কিনে নেন তার শ্যালক কাজী সোহেল। তখন এমরান ব্রিক ফিল্ড থেকে হয় কাজী অ্যান্ড কোং নামে। পরে সোহেল এটি আবদুর রাজ্জাক মজুমদার নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কায়জার মোহাম্মদ ফারাবীর নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এতে চৌদ্দগ্রাম সহকারী ভূমি কমিশনার, চৌদ্দগ্রামের ওসি ও ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালককে সদস্য রাখা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত