ফরিদপুরে জোড়া লাশ

শিক্ষিকার স্বামীকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৫:০২ এএম

গত বছর ফরিদপুরের একটি বাড়ি থেকে কলেজশিক্ষিকা সাজিয়া বেগম ও ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হাসানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ওই শিক্ষিকার স্বামী শেখ শহীদুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। রবিবার ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মাসুদ আলীর আদালতে প্রতিবেদনটি উত্থাপিত হতে পারে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) বিপুল দে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার কোতোয়ালি থানার ওসি এ এফ এম নাসিম বলেন, দুই মরদেহের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদনে ‘সাজিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং ফারুক আত্মহত্যা করেছেন’ বলে মত দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে ঘটনার আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করে ওই দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় আর কারও উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং সাজিয়ার স্বামী শহীদুলসহ মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘সাজিয়াকে হত্যা করার পর ফারুক আত্মহত্যা করেন’ বলে উপসংহার টেনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

গত বছর ৬ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী মহল্লার নূরুল ইসলামের দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিয়ার রক্তাক্ত লাশ এবং সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে আটকানো নাইলনের রশি গলায় বাঁধা অবস্থায় ফারুকের লাশ ঝুলন্ত উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন রাতে সাজিয়ার ফুফু আফসারী আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পরদিন তার স্বামী শহীদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি এখন কারাগারে আছেন।

সাজিয়া ঢাকার সূত্রাপুর থানার বানিয়ানগর মহল্লার শেখ শাজাহানের মেয়ে। তার স্বামী শহীদুল একই এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। সাজিয়া ১১ ও সাড়ে চার বছর বয়সী দুই ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন। সাজিয়া ওই বাসা ভাড়া নেন এক বছর আগে। ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক ঘটনার এক মাস আগে পাশের ফ্ল্যাটে ওঠেন। ফারুক সোনালি ব্যাংক ঢাকার মতিঝিল শাখার প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত