ব্যাটসম্যানরা গড়েছিলেন পাহাড় পুঁজি। কিন্তু রাজশাহীর কিংসের ছুড়ে দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্যও নাগালে নিয়ে এল চিটাগাং ভাইকিংস। মেহেদী হাসান মিরাজের দলের বিপক্ষে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল মুশফিকুর রহিমের দল। কিন্তু চিটাগাংয়ের ব্যাটসম্যানর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে কাটার মাস্টারের মেজিক্যাল বোলিংয়ে দারুণ এক জয় পেল রাজশাহী।
শনিবার বিপিএলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রাজশাহীর জয় ৭ রানে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান করে রাজশাহী। জবাবে ৮ উইকেটে ১৯১ রানে থামে চিটাগংয়ের ইনিংস।
শেষ তিন ওভারে ২৭ রান প্রয়োজন ছিল চিটাগংয়ের। হাতে পাঁচ উইকেট। ঠিক তখন ১৮তম ওভারে বল করতে এসে মাত্র ৬ রান দিলেন মোস্তাফিজ। কামরুল ইসলাম রাব্বি ১৯তম ওভারে ৮ দিয়ে তুলে নেন ১ উইকেট। শেষ ওভারে তখন চিটাগংয়ের সামনে ১৩ রানের সমীকরণ।
বিস্ফোরক সিকান্দার রাজা উইকেটে ছিলেন বলেই আশা ছিল চিটাগংয়ের। কিন্তু প্রথম বলেই দারুণ এক ইয়র্কারে রাজার স্টাম্প উপড়ে দিলেন মোস্তাফিজ। পঞ্চম বোল্ড করলেন রবিউলকে। ২ উইকেট হারিয়ে মোস্তাফিজের ওভারটিতে চিটাগং নিতে পারে মাত্র ৫ রান। ফলে ৭ রানের জায় পায় রাজশাহী। সব মিলে ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও ফিজ।
অথচ পাহাড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেমন শুরু দরকর, দলকে ঠিক তেমন শুরুই এনে দেন মোহাম্মদ শাহজাদ। কামরুল ইসলাম রাব্বির প্রথম ওভারে তিন ছক্কা ও এক চারে ২২ রান তোলেন এই আফগান। অপর প্রান্তে ক্যামেরন ডেলপোর্ট খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। ৮ বলে ৭ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান মোস্তাফিজ।
তবে ইয়াসির আলির সঙ্গে দারুণ জুটি হয় শাহজাদের। দুজনের যোগ করেন ৪৮ রান। অষ্টম ওভারে শাহজাদকে সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ২২ বলে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে ৪৯ রান করেন শাহজাদ।

এরপর ইয়াসির ও মুশফিকের ৫৭ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি পথে রাখে চিটাগংকে। ৫৮ রান করা ইয়াসিরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আরাফত সানি। আগের ম্যাচ ৭৮ রানের ইনিংস খেলা ইয়াসির এদিন নিজের ইনিংস সাজান ২ ছক্কা ও ৭ চারে। ইয়াসির ফিরে যাওয়ার পরের ওভারে ফিরে যান মুশফিকও। ২০ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ২২ রান করেন তিনি।
এর পর সিকান্দার রাজার ব্যাটে আশায় ছিল চিটাগং। দারুণ খেলছিলেন জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডার। কিন্তু দুর্দান্ত মোস্তাফিজের কাছে হার মেনে নিতে হয়েছে তাকে, হার মেনেছে চিটাগংও।
এর আগে জনসন চার্লস, সৌম্য সরকার, লরি ইভান্স, রায়ান টেন ডেসকাট ও ক্রিস্তিয়ান জঙ্কার বড় পুঁজি এনে দেন রাজশাহীকে। রাজশাহীর হয়ে এদিন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে জনসন চার্লস। এই ক্যারিবিয়ানেই যেন ভাগ্য ফিরল রাজশাহীর। বাজে ফর্মের কারণে আগের ম্যাচে ডাগআউটে জায়গা হয়েছিল সৌম্য সরকারের। এ ম্যাচে আবারো একাদশে ফিরলেন। ওপেনিংয়ে নেমে জনসন চার্লসের সঙ্গে উপহার দিলেন ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে সৌম্য ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। খালেদ আহমেদের শিকার হওয়ার আগে ২০ বলে ৫ চারে ২৬ রান করেন সৌম্য। এবারের আসরে এটিই সৌম্যর সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
এরপর চার্লস এগিয়েছেন লরি ইভান্সকে নিয়ে। দুজন দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৭০ রান। ইভান্সকে ফিরিয়ে সেই জুটিও ভেঙেছেন খালেদ। ২৯ বলে ৪ চারে ২৬ রান করেন ইভান্স।
চার্লস থেমেছেন ফিফটি তুলে নিয়ে। আবু জায়েদ রাহির শিকার হওয়ার আগে ৪৩ বলে খেলেছেন ৫৫ রানের ইনিংস। ৫ চারের সঙ্গে হাঁকিয়েছেন ২ ছক্কা।

শেষ দিকে রায়ান টেন ডেসকাট ও ক্রিস্তিয়ান জঙ্কার ঝড়ে রাজশাহীর স্কোর প্রায় দুই শ ছুঁয়েছে। ডেসকাট ১২ বলে ৪ ছক্কায় করেছেন ২৭ রান। শেষ বলে আউট হওয়া জঙ্কার ১৭ বলে ৩৭ রান করেছেন ১ চার ও ৩ ছক্কায়।
চিটাগংয়ের পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট নেন খালেদ। ১টি করে উইকেট নেন আবু জায়েদ ও ক্যামেরন ডেলপোর্ট।
নয় ম্যাচে তৃতীয় হারের স্বাদ পাওয়া চিটাগং ১২ পয়েন্ট নিয়ে এখনো শীর্ষেই। তবে শীর্ষ স্থান ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ তাদের। আর দশম ম্যাচে পঞ্চম জয় পাওয়া রাজশাহী টেবিলের পাঁচে। সেরা চারের সম্ভাবনা এখনো টিকে দলটির।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (চার্লস ৫৫, সৌম্য ২৬, ইভান্স ৩৬, ডেসকাট ২৭, জঙ্কার ৩৭; খালেদ ২/৩২)।
চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৯১/৮ (শাহজাদ ৪৯, ইয়াসির ৫৮, মুশফিক ২২, সিকান্দার রাজা ২৯; মোস্তাফিজ ৩/২৮, মিরাজ ২/২৫, রাব্বি ২/৪৪)
ফল: রাজশাহী কিংস ৭ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: মোস্তাফিজুর রহমান।
