কোচিং বাণিজ্যের কারণ শিক্ষাব্যবস্থায় ত্রুটি : হাইকোর্ট

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪৫ এএম

স্কুল-কলেজের শিক্ষাব্যবস্থায় ত্রুটি এবং শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণেই দেশে কোচিং নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এ ধরনের বাণিজ্যকে ‘নতুন ধরনের অপরাধ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। 

কোচিং বাণিজ্য ও নীতিমালা বিষয়ক আলাদা আলাদা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের শুনানিতে গতকাল রবিবার এসব কথা বলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এদিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকালের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল। আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। অন্যদিকে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম। শুনানিতে আদালত বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন পড়ালেখা শুরু করে তখনই তার মাথায় জিপিএ-৫ এবং কোচিংয়ের চিন্তা ঢুকে যায়। একজন শিক্ষার্থী যখন এসএসসিতে পড়ছে তখনই অভিভাবকরা তার মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে, তাকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। ক্লাসরুমে মেডিকেল-বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যে পড়াশোনা দরকার সেটা দেওয়া হয় না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ে যাচ্ছে। আদালত আরও বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা এবং ক্লাসে পড়ানোর ব্যর্থতার কারণেই কোচিং নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে। এটি একটি নতুন ধরনের অপরাধ। আদালত জানতে চায়, কোনো একজন শিক্ষার্থী যদি ডাক্তার হতে চায় এবং সে যদি কোচিং না করে, তাহলে সে কীভাবে এটা করতে পারে? আদালত বলে, নীতিমালার মাধ্যমে তো কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই আইন থাকতে হবে। কিন্তু এখানে তো আইন নেই, নীতিমালা আছে।

শুনানিতে ফিদা এম কামাল বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের বাইরে কোচিং চলছে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষের ক্লাসকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। কোচিং কোনো শিক্ষা দিচ্ছে না। এ পদ্ধতি শুধু পাস করার পদ্ধতি বাতলে দিচ্ছে। কোচিং শিক্ষাব্যবস্থাকে জিম্মি করে ফেলেছে। এমপিও, নন-এমপিও এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য করতে পারেন না। নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষক দশজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট টিউশন দিতে পারেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তারা এটা করতে পারেন না। এটি প্রচলিত  শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

এর আগে গত বছর কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা উল্লেখ করে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় দুদক। পরে ওই নোটিসের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা-২০১২ চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন শিক্ষক হাইকোর্টে আলাদা আলাদা কয়েকটি রিট আবেদন করেন। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দুদকের ওই চিঠির কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। আপিল বিভাগ বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে ওই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এ রুলের নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত