ঢাকায় ধুলাদূষণ রোধে হাইকোর্টের ৩ নির্দেশনা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:০১ এএম

রাজধানীতে ধুলার দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি রোধ করতে অন্তর্বর্তীকালীন তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) গত রবিবার করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয় আদালত।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ রুলসহ এসব নির্দেশনা দেয়। এগুলো হলো ঢাকায় বায়ুদূষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে দুইবার পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, রাজধানীর যেসব জায়গায় উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলছে এবং যেসব জায়গা থেকে ধুলাবালির উৎপত্তি হচ্ছে সে সব জায়গা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢেকে দেওয়ার পর কাজ করার পদক্ষেপ নিতে সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ এবং আদেশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধুলাবালিপ্রবণ স্থানে সকাল ও বিকেল দুইবেলা পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা। 

এ ছাড়া নির্মাণাধীন জায়গা ঢেকে দেওয়া ও পানি ছিটানোর পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এইচআরপিবি’র সভাপতি আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।  তিনি জানান, আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।

মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, ‘সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। পরিবেশ আইন ১৯৯৫-এর অধীনে ১৯৯৭ সালে যে বিধিমালা হয়েছে তাতে বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ঢাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজের কার্যাদেশে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শর্ত থাকলেও যারা কাজ করছেন তারা তা মানছেন না। ফলে ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ছে লাখ লাখ মানুষ। এ কারণেই রিট আবেদনটি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত