সরিষার ক্ষেতে বসেছে হাজারো মৌ বক্স

মাগুরায় মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২০০ টন

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৯ এএম

মাগুরায় চলতি সরিষা মৌসুমে বিভিন্ন মৌ খামার থেকে অন্তত ২০০ টন মধু সংগ্রহ হবে বলে আশা করছেন এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। এ বছর সরিষার ফুল আসার শুরু থেকেই মৌচাষিরা ক্ষেতের চারপাশে স্থাপন করেছেন মৌ বক্স। এরই মধ্যে মধু আহরণ শুরু হয়েছে। এবার কমপক্ষে তিন কোটি টাকার মধু আহরণ হবে বলে আশা করছেন মৌচাষি, কৃষি বিভাগ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠিরশিল্প বিসিকের কর্মকর্তারা।

কৃষি বিভাগ ও মৌচাষিদের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর মাগুরার চারটি উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এসব সরিষাক্ষেতকে উপলক্ষ করেই বসেছে মৌচাষিদের ৩০টি খামার। স্থাপন করা হয়েছে ১ হাজার ১৬৩টি মৌ বক্স। জেলার শালিখা উপজেলা ও মাগুরা সদরের হাজরাপুর ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে মৌমাছি চাষ হয়। যেখান থেকে এরই মধ্যে ১০০ টন মধু সংগৃহীত হয়েছে। বাকি সময় আরও ১০০ টন মধু আহরিত হবে বলে চাষিদের আশা। যার বাজার মূল্য কমপক্ষে তিন কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে মাগুরার মধু এখন সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়, এমনকি দেশের বাইরেও। সরিষাক্ষেতে মৌ বক্স স্থাপনের ফলে শুধু মধুই সংগৃহীত হয় না, পাশাপাশি মৌমাছির মাধ্যমে ফুলের যথাযথ পরাগায়নে ফলন হয় দেড় গুণ। এ কারণে সরিষা চাষিরা মৌ চাষের বিষয়ে এখন ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। যে কারণে ক্রমেই বাড়ছে মৌ চাষ। সরেজমিনে মাগুরা সদর উপজেলার কালীশংকরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি ফাঁকা জমিতে মাছিসহ বক্স বসিয়েছেন মাগুরার সফল মৌচাষি মখলেছুর রহমান। তিনি জানান, ছাত্র অবস্থায়ই ১৯৯০ সালে মৌ চাষ শুরু করেন তিনি। এ কাজের জন্য ২০১১ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ মৌখামারি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। বর্তমানে তার রয়েছে ১০৮টি বাক্স। তার দেওয়া তথ্য মতে, মাগুরা জেলায় মৌখামারির সংখ্যা অন্তত ৩০ জন। তার খামারে এপিস মিলিসিরা জাতের মৌমাছি চাষ করা হয়। সাধারণত সরিষা, লিচু, কালিজিরা, পেঁয়াজ, সূর্যমুখী, ধনে, বরই, শজনে, খেসারি ফুল থেকে প্রতি বছরের এ সময়টিতে মধু সংগ্রহ করা হয়। মাগুরায় মধু প্রসেসিং করার জন্য কোনো মেশিন নেই, নেই কোনো গবেষণাগার। যেহেতু এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত, সে কারণে জরুরি ভিত্তিতে এগুলো গড়ে ওঠা দরকার।

সদরের আঙ্গারদহ এলাকার মধুচাষি রিপন জানান, সরিষা মৌসুমে বেশি মধু উৎপাদন হওয়ায় উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে অনেক কম দামে মধু বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে সাধারণত মৌমাছির নানাবিধ রোগব্যাধি হয়ে থাকে। ফলে প্রচুর মাছি মারা যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে তেমন কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা পান না। এ সময় নিজস্ব ধারণা থেকে মাছিকে বাঁচিয়ে রাখার নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সহজ শর্তে সুদবিহীন ঋণ সুবিধা পেলে আরও অনেক বেকার যুবক এ পেশায় এগিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে মাগুরা শিল্প-সহায়ক কেন্দ্রের (বিসিক) উপব্যবস্থাপক আবদুস সালাম জানান, মাগুরা থেকে এ বছর ২০০ টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আছে। আশা করছি এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এ ছাড়া মৌখামারিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মৌ চাষ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকায় কৃষকরা যাতে সরিষাক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার না করেন, সে জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মধু প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া বিসিকের পক্ষ থেকে মৌ চাষকরণের আওতায় এ পর্যন্ত ৭০ চাষিকে প্রশিক্ষণ এবং ২৪ চাষিকে ২৫ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত