রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সৌদি আরবের জনপ্রিয় ৫ খেজুর

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:১৫ পিএম

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় সৌদি আরবের খেজুর। কেউ সৌদি আরবে গেলে আর কিছু আনুক বা নাই আনুক খেজুর আনবেই। সৌদি আরবের বাজারে বিভিন্ন ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। তাদের প্রতিটির আকার, স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ বিভিন্ন রকম। লাইফ ইন সৌদি অ্যারাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে দেশটির জনপ্রিয় খেজুর সম্পর্কে।

আজওয়া : দেশটির সব থেকে জনপ্রিয় খেজুর হচ্ছে আজওয়া। বলা হয়ে থাকে এটি মদিনা শরিফের সর্বোত্তম খেজুর। হযরত মোহাম্মদ (সা.) ইফতার করতেন এই খেজুর দিয়ে। দেখতে কালো, বিচি ছোট এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। তা ছাড়া এই খেজুরের দামও অন্যান্য খেজুরের চেয়ে বেশি। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর।

বলা হয়ে থাকে, এই খেজুর খেলে গর্ভবতী নারীর প্রসব বেদনা কম হয়। সহিহ বুখারি হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ ও জাদু ক্ষতি করতে পারবে না। সৌদি আরবে প্রতি কেজি আজওয়া খেজুরের দাম পরে ৫০ থেকে ১০০ সৌদি রিয়াল। আমাদের দেশে সুপারশপ আগোরাতে ৫০০ গ্রাম আজওয়া খেজুর পাওয়া যায় ১,৩৭০ টাকায়। তবে সুপারশপের বাইরে থেকে ক্রয় করলে খরচ আরেকটু কম পরে।

আনবারা : এই খেজুর আজওয়ার মতো ছোট নয়। আনবারা খেজুরের আকার বেশ বড়। রং লালচে বাদামি ও পুরু মাংসল এই খেজুরের বিচি খুব ছোট হয়। সৌদির বাজারে এই খেজুরও অত্যন্ত দামি।

সাফাওয়ি : এই খেজুর নরম, লম্বাটে। গাঢ় কালচে বাদামি রঙের এই খেজুর খেতে মোটামুটি মিষ্টি। এই খেজুরে রয়েছে রয়েছে উচ্চমাত্রার মিনারেল। গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে এই খেজুর খেলে পাকস্থলীর জীবাণুু ধ্বংস হয়।

বারহি : এই জাতের খেজুর দেখতে ছোট ও গোলাকার হয়ে থাকে। পাকলেও কিছুটা শক্ত ভাব থেকেই যায়। রং হয় বাদামি ও হলদেটে। এর হলদে অংশ একটু টকভাব থাকলেও বাদামি অংশ বেশ মিষ্টি স্বাদের। এই জাতের খেজুর থোকা ধরেই বিক্রি করা হয় সাধারণত। হলদে খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, পটাশিয়াম। যখন এই খেজুর পাকার মৌসুম শুরু হয় তখন দেশটির স্থানীয় বাজারে প্রচুর পরিমাণে কিনতে পাওয়া যায়। যারা কিনা খুব মিষ্টিজাতীয় খেজুর পছন্দ করেন না, তাদের জন্য উত্তম এই জাতের খেজুর।

সেগাই : সাধারণত রিয়াদের আশপাশে এই খেজুর চাষ হয় এবং রিয়াদে পাওয়া যায় বেশি পরিমাণে। এর দামও অনেক বেশি। শুকনো জাতের এই খেজুর হালকা মিষ্টি স্বাদের। এটা একটু শক্ত বলে মাঝে মাঝে ক্রিসপি বা কুড়মুড়ে ভাব চলে আসে খাওয়ার সময়। রং হয় হালকা হলুদ ও বাদামি বর্ণের সংমিশ্রণ।

কীভাবে সংরক্ষণ করবেন

সাধারণত তিন ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। যেমন- শুকনা, আধা শুকনা ও নরম। একেক ধরনের খেজুর একেরভাবে সংরক্ষণ করতে হয়।

খেজুর যদি এক সপ্তাহের মধ্যে খেতে চান তাহলে পলি ব্যাগে ভরে রাখতে পারেন।

image

-আর যদি এক বছর সংরক্ষণ করতে চান তাহলে কনটেইনারে ভরে ফ্রিজে রাখাই ভালো। ফ্রিজে রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো হলো নরম খেজুর। শক্ত বা একদম শুকনো খেজুর ফ্রিজে না রাখাই ভালো। এতে আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে।

- আধা শুকনো খেজুর ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন চুলা বা আগুনের আশপাশে না থাকে। সূর্যের আলো পড়ে এমন জায়গায়ও রাখা উচিত না।

-তবে অনেকদিনের জন্য খেজুর সংরক্ষণ করতে চাইলে প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। তবে পলিব্যাগে রাখার সময় চেপে বাতাস সব বের করে দিতে হবে। ব্যবহারের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে ডিপ ফ্রিজ থেকে খেজুর বের করে গরম পানিতে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। আগের মতোই নরম হয়ে যাবে খেজুর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত