রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘আত্মহত্যার আগে স্ত্রীর সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছিল আকাশের’

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:০৭ এএম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের (৩২) আত্মহত্যায় ‘প্ররোচনা’ দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তার স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আকাশের মা জোবেদা খানম বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে নগরীর চান্দগাঁও থানায় এ মামলা করেন। এর আগে পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতেই নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়র বাসা থেকে আটক করে মিতুকে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিজানুর রহমান জানান, মিতু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেনÑ বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জানুয়ারি মিতু দেশে আসার পর তা আরও বেড়ে যায়। বুধবার রাতে আকাশ আত্মহত্যা করার কয়েক ঘণ্টা আগে এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে মিতু অনেক বিষয় এড়িয়ে গেছেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেলের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার ভোরে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন তিনি। আত্মহত্যার আগে ফেইসবুকে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক’ ও ‘প্রতারণার’ অভিযোগ করে যান। এর ‘প্রমাণ’ হিসেবে মিতুর সঙ্গে তার ‘বন্ধুদের’ বেশ কিছু ছবিও তিনি ফেইসবুকে তুলে দিয়ে যান।

চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জোবাইর সৈয়দ দেশ রূপান্তরকে জানান, আকাশের মায়ের দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় করা মামলায় মিতু ছাড়াও তার মা শামীম শেলী, বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় নাগরিক জনৈক প্যাটেল ও ডা. মাহবুবুল আলমকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে চিকিৎসক আকাশকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা জোবাইর।

আকাশের মা হোসনে আরা তার ছেলের মৃত্যুর জন্য পুত্রবধূ মিতুকে দায়ী করে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর দাবি করেছেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে মাটি দিলে এমনিতেই পচেগলে যাবে। তাই আগে খুনের বদলে খুন চাই। তার আগে মাটি দেব না ছেলেকে (যদিও পরে তাকে পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে আকাশের দাফনকাজ শেষ করতে রাজি করান)।

এদিকে গতকাল সকালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত উপকমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘বছর তিনেক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন আকাশ ও মিতু। বিয়ের পরপরই মিতু আমেরিকা চলে যান। তখন থেকেই বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মিতু দেশের আসার পর তা আরও বেড়ে যায়। বুধবার রাতে এ নিয়ে তাদের হাতাহাতির পর মিতুর বাবা এসে আকাশদের বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে যান। ভোরের দিকে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেন আকাশ।’

আকাশের ফেইসবুক পোস্ট এবং তার পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে মিজানুর আরও বলেন, ‘আকাশ তার পোস্টে মিতুর যেসব ‘বন্ধুর’ নাম বলে গেছেন, তাদের বিষয়েও পুলিশ তদন্ত করবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত