সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লেখা আনন্দ দিতে পারলেই আমি সার্থক: হাসান আজিজুল হক

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩১ পিএম

যশস্বী কথাসাহিত্যিক, লেখক হাসান আজিজুল হকের ৮০তম জন্মোৎসব উদ্‌যাপন করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বর্ণাঢ্য সব আয়োজনে শনিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই জন্মোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক-এর ৮০তম জন্মোৎসব উদ্‌যাপন পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

রবীন্দ্র সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। এরপর কথাসাহিত্যিককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক কথাসাহিত্যিকের হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন। সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ রাজশাহীর বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। কথাসাহিত্যিককে নিয়ে লেখা মানপত্র পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা। এ সময় কথাসাহিত্যিককে নিয়ে লেখা একটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহীর কবিকুঞ্জের সভাপতি ও জন্মোৎসব উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক । 

অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিকের কন্যা সুলতানা শরমিন জাহান তোতনের গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত ও নাতি অনির্বাণ হাসান অনিন্দ্য পিয়ানো বাজিয়ে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এছাড়া, বরেণ্য এই কথাসাহিত্যিকের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকে উপজীব্য করে নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘গল্পলোকের চিত্রকর’ প্রদর্শিত হয়। মিলনায়তনের সামনে এই কথাসাহিত্যিকের সকল গ্রন্থের প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থাও করা হয়।  

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শ্রোতাদের কিশোরবেলার গল্প শোনান কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘পাঁচ কী ছয় বছর বয়সে পাঠশালায় পড়ালেখা জীবন শুরু।’

তিনি বলেন, ‘এই বয়সে এসেও মানুষের যেই অকৃত্রিম ভালোবাসা আমি পেয়েছি তা অসামান্য। সবার ভালোবাসা পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি যা জানতাম তা সব সময় মানুষকে জানানোর চেষ্টা করেছি। অন্যের থেকে নিজের অজানাকে আবিষ্কার করেছি। এখন বয়স বেড়েছে, আগের মতো সবকিছু করতে পারি না। তবে এখনো স্মৃতিশক্তি কমে যায়নি। যে কয়দিন বাঁচি লেখালেখি চালিয়ে যেতে চাই। আমার লেখায় যদি মানুষের কল্যাণ হয় এবং পাঠক যদি আনন্দিত হয় এতেই আমি নিজেকে স্বার্থক মনে করব।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, চৌধুরী মো. জাকারিয়া, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান, অধ্যাপক মিজানউদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইমেরিটাস অরুণ কুমার বসাক, পুণ্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মোকলেসুর রহমান, ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আকুঞ্জি, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দীন, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার, রাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজ্জাদ বকুলসহ রাজশাহীর গুণী ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত