কাউকে ডাকলেন। তিনি আসলেন। হলো পরিচয়ও। তারপর দীর্ঘ আলাপন। আগন্তুক ঠাওর করে গেলেন আপনার ব্যক্তিত্ব। হয়তো তিনি মুগ্ধ, নয়তো বিরক্ত। যদি কিছু কৌশল জানা থাকে, তবে প্রথমটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যথায় ষোলো আনাই মিছে!
মন দিয়ে কথা শুনুন
নতুন কারও সঙ্গে আলাপ করার ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হতে পারে ব্যক্তিগত জীবনে কিংবা কর্মক্ষেত্রে। যখন কেউ কথা বলতে আসবে কিংবা আপনি যাবেন, তখন ভালো শ্রোতা হওয়ার মানসিকতা রাখুন। অন্যের কথা মন দিয়ে শুনুন। প্রশ্ন করতে চাইলে ওপেন-এন্ডেড বা বর্ণনামূলক উত্তরের প্রশ্ন করুন। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বোধক উত্তর আসে এমন প্রশ্ন যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, অধিকাংশ মানুষ নিজের কথা বিস্তারিত বলতে চায়।‘আমি’, ‘আমার’ এড়িয়ে চলুন
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ অবনী পরে। কামিনী রায়ের বিখ্যাত এই লাইন নিশ্চয়ই আপনার জানা। শুধু আপনার দুঃখ-দুর্দশার কথা বলবেন কিংবা নিজের জয়গান গাইবেন, অপরের কথা বলবেন না সেটি হতে পারে না। যত পারেন ‘আমরা’, ‘আমাদের’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে কথা বলুন। এতে শ্রোতা আপনাকে আপন ভাববে।
মানুষের সঙ্গে পরিচিত হোন
কথা বলার সময় বক্তা সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব তথ্য জানার চেষ্টা করুন। প্রতিনিয়ত নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারাও একটা দক্ষতা। এতে আপনার সামাজিক নেটওয়ার্ক বাড়বে। প্রশংসা করুন
সব সময় অন্যের প্রশংসা করার চেষ্টা করুন। সুন্দর প্রশংসা একটি শিল্প। তবে সেটি যেন কোনোভাবেই অপ্রাসঙ্গিক না হয়। যা বলবেন, আন্তরিকতার সঙ্গে বলার চেষ্টা করুন। অপরের সম্পর্কে নিজে যা বিশ্বাস করেন না, তা বলতে যাবেন না। বিশ্বাস নিয়ে ‘মিথ্যা’ কথা বললেও তাতে যে রং ছড়ায়, তা কোনো শিল্পীও তৈরি করতে পারেন না।
ভুল ধরার ক্ষেত্রে সাবধান
এ ক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু অনুকূল চন্দ্রের একটি কথা মনে রাখলেই আপনার আলাপন পর্ব সার্থক হবেÑ ‘কাউকে যদি বলিস কিছু সংশোধনের তরে, গোপনে তা বুঝিয়ে বলিস সমবেদনা ভরে’।
