সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সড়ক

‘১৫ মিনিটের’ পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২২ এএম

চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতুর (নতুন ব্রিজ) উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে শম্বুকগতিতে। পাঁচ কিলোমিটার সড়কে এলোমেলোভাবে নির্মাণসামগ্রী রাখায় ভাঙাচোরা সরু পথ দিয়েই চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। প্রতিদিন ব্যস্ততম সড়কজুড়ে তীব্র যানজট দেখেন যাত্রীরা। এর সঙ্গে রয়েছে ধুলাবালি। চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার অন্যতম মূল সড়কটিতে ১৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি সময়।

দেড় বছরেরও বেশি সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বলছে, আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।

নির্মাণ সংশ্লিষ্ট ও বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ‘থার্ড কর্ণফুলী ব্রিজ অ্যাপ্রোচ রোড প্রজেক্ট, চট্টগ্রাম’ শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট মোড় থেকে শাহ আমানত সেতুর উত্তর প্রান্তের সংযোগ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে সার্ভিস সড়কসহ ছয় লেনে উন্নীতকরণ, শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ সংযোগ থেকে ত্রিমোহনী (আনোয়ার ক্রসিং) পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ করা হবে। ২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে সওজের এ প্রকল্পের অধীনে চারটি সেতু, আটটি কালভার্ট ও দুটি আন্ডারপাস (রাহাত্তারপুল ও কালামিয়া বাজার এলাকায়) নির্মিত হবে। ২০১৭ সালের ৬ মার্চ সওজের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএমসিজি-মীর আক্তার-সাদিম আল কুয়েত জেভির কার্যসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপরই সড়ক সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাঁচ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজের পাশাপাশি সেতু ও আন্ডারপাস নির্মাণেরও কাজ চলছে। যান চলাচলের জন্য দুই পাশে দুটি সরু (খুব ছোট) পথ রেখে পুরো সড়ক সম্প্রসারণ হচ্ছে। এলোমেলোভাবে নির্মাণসামগ্রী রেখে রাস্তা দখল করে রাখা হয়েছে। এই সরু পথে বড় বড় গর্তের পাশাপাশি কিছু স্থান ঘেরাও করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে সড়কের গর্তে গাড়ি আটকে থেকে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যান চলাচলে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি দীর্ঘ যানজটে নাকাল হন যাত্রীরা। এছাড়া সড়কজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ পথচারীরা।

শামসুল হুদা নামে বাকলিয়া এলাকার স্থানীয় একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই বছর ধরে তারা অনেক কষ্টে আছেন। গভীর রাতে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সারা দিন সড়কে যানজট লেগে থাকে। দিনের বেলায় এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা দুঃসাধ্য। যানজটের পাশাপাশি ধুলাবালির যন্ত্রণা। মাঝখানে কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। জরুরি বিবেচনায় কাজটি করলে এতদিনে নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যেত।’

মাহমুদ নামে কক্সবাজারগামী এক বাসচালক বলেন, ‘সড়ক বড় করলে আমাদের সবার জন্য ভালো। কিন্তু তাই বলে, এতদিন? শুধুমাত্র পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে যদি দুই বছর সময় নেয়, তাইলে বাকি সড়কের নির্মাণ করতে কতদিন লাগবে? নির্মাণকাজ শুরুর পর সড়কজুড়েই এখন যানজট। আগে ১৫ মিনিটে বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ যেতাম। এখন যানজটের কারণে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।’

প্রকল্প পরিচালক এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্মাণকাজের কারণে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীতে এটিই প্রথম ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। টেকসইভাবে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা থাকলেও মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার জোর প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ছয় লেনের মধ্যে সড়কের উভয় প্রান্তে এক লেন করে সার্ভিস রুট থাকবে। স্থানীয় যানবাহনগুলো সার্ভিস রুট দিয়ে চলাচল করবে এবং মাঝখানের চার লেন হবে ডেডিকেটেড। এই চার লেনের ডেডিকেটেড রোড দিয়ে বহদ্দারহাট থেকে সরাসরি শাহ আমানত সেতু এলাকায় যেতে পারবে। মাঝপথে কোথাও দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে না। সাড়ে চার মিটার গভীরতার ৩ দশমিক ৬৫ মিটার প্রশস্ত আন্ডারপাস দুটি দিয়ে উভয় প্রান্তের সার্ভিস রুটে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত