শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৩৩ লাখ টাকার হদিস নেই

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৩, ০৫:০৭ এএম

অডিটে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) লাইসেন্স শাখার অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ে। হিসাব নিরীক্ষার প্রতিবেদনেও আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়সহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ করা হয়। অথচ ছয় বছরেও ১১টি এমবই (লাইসেন্সের অর্থ আদায়ের রসিদ বই) ও ৩৩ লাখ টাকা আদায় হয়নি। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও। অন্যদিকে, অভিযোগ আমলে নিয়ে গত বছর ১৩ অক্টোবর দুর্নীতি-সংশ্লিষ্ট শাখার রেকর্ডপত্র চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু সেই কাগজপত্র এখনো সরবরাহ করা হয়নি। করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ফের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করছে। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ট্রেড লাইসেন্স শাখা ক্যাশ শাখা থেকে ২০৪টি এমবই গ্রহণ করে। ২০৪টি বইয়ের মধ্যে ১৯৩টি এমবই অডিট টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ১১টি বই জমা দিতে পারেনি লাইসেন্স শাখা। অডিট টিম ১১টি এমবই চেয়ে দুবার চিঠি দিলেও সাড়া মেলেনি।

অন্যদিকে, অডিট টিমের কাছে সরবরাহকৃত ১৯৩টি বই যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৯৩টি বইয়ে ৪ কোটি ৬২ লাখ ৫৩ হাজার ৮১ টাকা রাজস্ব আদায় করে লাইসেন্স শাখা। তবে ওই অর্থবছরে ক্যাশ শাখায় জমা করেছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ২৭ হাজার ৯২৩ টাকা মাত্র। অর্থাৎ ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫৮ টাকা করপোরেশনের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

খুলনা দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার ফারুক হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল হয়। অভিযোগ সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে লাইসেন্স শাখার রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। চাওয়া রেকর্ডপত্রের মধ্যে রয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স শাখায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়। দুটি কমিটি ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর এবং ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করে। দাখিলকৃত প্রতিবেদনের সত্যায়িত ফটোকপি (গঠিত দুটি তদন্ত কমিটিসহ)। করপোরেশনের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২০৪টি বইয়ের মাধ্যমে কত টাকা লাইসেন্সের রাজস্ব আদায় করা হয়। আদায়কৃত ২০৪টি মুড়ি বইয়ের সত্যায়িত ফটোকপি এবং ২০৪টি বইয়ের মাধ্যমে কত টাকা তহবিলে জমা দেওয়া হয় তার বিবরণী (তহবিলে জমা প্রদানের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ)। এ ছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেসিসির আদায়কৃত রাজস্বের ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ-সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণী (রেকর্ডপত্রসহ)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, লাইসেন্স শাখায় অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা অডিটে প্রমাণিত হলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ছয় বছর আগে ১১টি বই গায়েব করা হয়। আজও সে বইগুলোর হদিস মেলেনি। তাদের অভিমত, ওই বইগুলোর মাধ্যমেই বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বেশি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কর তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ফের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে খুলনা দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, বিষয়টির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তবে করপোরেশন এখনো কোনো রেকর্ডপত্র জমা দেয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত