ফোন : ০১৭৮৪৮৯৬৬৪৮
ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাস চার ধরনের। একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও অন্য ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। আর এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রেই তা মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে সারা বছরই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। শহর অঞ্চলের পাশাপাশি এখন তা গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট করে চিকিৎসা নেই। সাধারণত সাত দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু সেরে যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো অবস্থা দেখা দেয়, যা থেকে মৃত্যু হতে পারে।
সাধারণত ডায়াবেটিস, স্থূলতা, কিডনি বা লিভারের জটিলতা, অন্তঃসত্ত্বা থাকলে ডেঙ্গুর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অন্যান্য রোগের মতো ডায়াবেটিস রোগীদের অধিক সচেতন হতে হবে।
১. জ¦র হলেই চিকিৎসকের পরামর্শে আনুষঙ্গিক পরীক্ষা করিয়ে ফেলুন। এবারের ডেঙ্গু জ¦র আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে বহুল প্রচলিত ঘঝ১ নেগেটিভ আসছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. পরিপূর্ণভাবে বিশ্রাম নিতে হবে।
৩. পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি ছাড়া তরল জাতীয় খাবার (ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, লেবু পানি, সুপ) গ্রহণ করতে হবে।
৪. ডেঙ্গুতে জ¦রের সঙ্গে বমি ও পাতলা পায়খানা হলে অবশ্যই ওরস্যালাইন খেতে হবে। পাতলা পায়খানার জন্য অযথা সিপ্রোফ্লক্সাসিন, মেট্রোনিডাজল, এজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধ খাবেন না।
৫. রক্তের শর্করার মাত্রা ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর অথবা প্রয়োজনানুসারে আরও অধিকবার পরীক্ষা করতে হবে। সেই সঙ্গে সম্ভব হলে স্ট্রিপের মাধ্যমে প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে।
৬. সময়মতো ও যথাযথভাবে খাবার খেতে হবে। অরুচি বোধে প্রয়োজনে বারবার খেতে হবে।
৭. ইনসুলিন বা ওষুধ নিয়ে সময়মতো না খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৮. প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা নির্ধারণ করে নিন।
৯. ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন, ক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন-জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
১০. জ¦র ও ব্যথা উপশমে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ নয়।
১১. লিভার, হার্ট এবং কিডনি জটিলতা থাকলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
১২. রক্তের প্লাটিলেট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন না। জ¦র কমে যাওয়ার পর সংকটকাল পেরিয়ে গেলে আপনা থেকেই প্লাটিলেট বাড়তে শুরু করে।
১৩. শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য কিছু পরীক্ষা বারবার করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসককে সহায়তা করুন। না জেনে অযথা ভুল মন্তব্য করবেন না।
১৪. অতিরিক্ত বমি বা পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, পায়খানা বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত, শরীরের বিভিন্ন অংশে, যেমন- মাড়ি ও নাক থেকে রক্তপাত, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে গেলে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে, অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
