রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খাসোগির খুনিদের বিচার কোন পথে

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৮ পিএম

সৌদি আরবের কনস্যুলেটে লেখক ও সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার তদন্তকারী তুরস্ক ছেড়েছেন চলতি সপ্তাহের শেষে। তদন্ত শেষে হত্যাকারীদের বিচারে বিশ্ব শক্তিগুলোকে তিনি জোর তাগিদ দিতে পারবেন কি না, তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিচার-বহির্ভূত এ হত্যার তদন্তকারী জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, তুরস্কের কয়েকজন মন্ত্রী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান ও ইস্তাম্বুলের শীর্ষ আইনজীবীর কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছেন, তাতে ‘একটু হতাশ’ তিনি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগি হত্যার অডিও রেকর্ড শুনেছেন ক্যালামার্ড। তবে সৌদি আরব এ তদন্তে তাকে কোনো সহায়তা করেনি। সৌদির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি ক্যালামার্ডকে। এমনকি তিন তলাবিশিষ্ট সৌদির কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশও করতে দেওয়া হয়নি তাকে।

খাসোগি হত্যার ঘটনা নিয়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে আলজাজিরা। তাদের প্রত্যেকে বলেছেন, ক্যালামার্ড কাকে হত্যার মূল চক্রান্তকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তার নথিতে বিশ্ব শক্তিগুলো কতটা শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বালকিস জারাহ বলেন, ‘ক্যালামার্ড তুরস্ক ছাড়ায় খাসোগির বর্বর হত্যায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে তার প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বড় প্রশ্নগুলো হলো, তিনি কোন ধরনের নথি দেখার সুযোগ পেয়েছেন, কীভাবে তিনি প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এর পেছনে ছুটে অপরাধের পুরোপুরি বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গরজ আছে কি না।’

সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ থেকে সমালোচক বনে যাওয়া খাসোগি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত নিবন্ধ লিখতেন। গত বছরের ২ অক্টোবর বিয়ের জন্য নথি সংগ্রহ করতে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে খুন হন তিনি। হত্যার পর তার দেহ টুকরো টুকরো করা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের অনুসন্ধান শেষে জানিয়েছে, খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি আরবের কার্যত নেতা ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। তবে সৌদির কর্মকর্তারা হত্যায় যুবরাজ মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, এমবিএসের অজ্ঞাতসারে এ হত্যা সংঘটিত হয়েছে।

খাসোগি হত্যার ঘটনায় সৌদির রাজধানী রিয়াদে ১১ জনকে আসামি করে গত মাসে বিচার শুরু হয়েছে। তবে এ বিচারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

জাতিসংঘের দূত ক্যালামার্ড বলেন, তুরস্কের আমন্ত্রণে তার ‘নিজের উদ্যোগে’ তদন্ত শুরু হয়। তিনি তুরস্কের দৈনিক হুরিয়েতকে বলেন, জাতিসংঘের হয়ে তদন্ত করার ‘দায়িত্ববোধ ছিল’ তার মধ্যে। তবে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাকে অপরাধের তদন্তে (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন) তাড়িত করেনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত