রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কেন্দ্রের নির্দেশনা না মানায় ঢুকছে বিএনপির লোকও

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৩ এএম

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া নিয়ম/পদ্ধতি না মানার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে। দলটির তৃণমূল নেতারা এ অভিযোগ জানিয়েছেন কেন্দ্রের কাছে। যাতে বলা হচ্ছে, নিয়ম অনুসরণ না করায় মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও নিজের উপজেলা থেকে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় নাম ওঠানো সম্ভব হয়নি। এ জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দায়ী করে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে যাচ্ছেন ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দপ্তরে। যাতে লেখা রয়েছে, কেন্দ্রের নির্দেশনা না মেনে ক্ষেত্রবিশেষে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে অথবা স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্ষমতার জোর দেখিয়ে তৃণমূল থেকে তার আস্থাভাজন লোকের নাম কেন্দ্রে পাঠাচ্ছেন। ফলে প্রকৃত রাজনৈতিক, সংগঠক-নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।

গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে তৃণমূল নেতাদের অভিযোগের স্তূপ চোখে পড়েছে। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও অফিস সহকারীরা এসব অভিযোগ জমা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে। কার্যালয়ের একজন অফিস সহকারী দেশ রূপান্তরকে জানান, সোমবার সকাল থেকে তিন শতাধিক অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। মনে হচ্ছে আরও পড়বে। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের চেয়ে অভিযোগপত্র জমা দিতে বেশি আসছেন তৃণমূল নেতারা।

তৃণমূল নেতারা ঢাকায় এসে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের হাতেও এ অভিযোগপত্র পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ‘আস্থাভাজন’ হতে না পারায় তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকায় নাম ওঠাতে সক্ষম হননি তারা। কিন্তু যাদের নাম পাঠানো হয়েছে, তাদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন ওই নেতারা। নিয়ম না মানায় কোথাও কোথাও বিএনপির লোকও ঢুকে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র থেকে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সুবিচার পাওয়ার আশা করছেন তৃণমূলের ওই নেতারা। তাদের অভিযোগপত্রে আরও লেখা রয়েছে, বর্ধিত সভা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে অনধিক তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠাতে বলা আছে। অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বর্ধিত সভা বা ভোটাভুটি কিছুই না করে তার পছন্দের ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগপত্র জমা দিতে আসা অনেকের সঙ্গে দেশ রূপান্তরের কথা হয়। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে সংসদ সদস্যের রোষানলে পড়ার শঙ্কায় মুখ খুলতে চাননি তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অসংখ্য উপজেলা থেকে অভিযোগ আসছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে জেলা-উপজেলা থেকে মনোনয়ন চাওয়াদের নাম কেন্দ্রে আসছে না। তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে দেখা যাচ্ছে, কোথাও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে, কোথাও জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছি। সত্যতা পেলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’  

তৃণমূল নেতাদের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের দপ্তরে তৃণমূল নেতারা বিভিন্ন উপজেলা থেকে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে তার কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা থাকলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হানিফ বলেন, তৃণমূল থেকে নাম না এলেও যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত