শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ড. কামালকে রাজি করানোর চেষ্টায় সুলতান-মোকাব্বির

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:০৮ এএম

শপথ গ্রহণের বিষয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে রাজি করাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও মোকাব্বির খান। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুফল বোঝাতে গত সোমবার ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বার ও বেইলি রোডের বাসায় গিয়েছিলেন তারা। তবে গণফোরামের কোনো সদস্যেরই শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন দলীয় সভাপতি, যিনি বিএনপিপ্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেরও শীর্ষ নেতা। গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে ড. কামাল বলেন, ‘দুই সংসদ সদস্যকে শপথ না নেওয়ার বিষয়ে আমার অবস্থান আবারও জানিয়ে দিয়েছি। আমার বিশ্বাস তারা শপথ নেবেন না।’ তবে দলীয় অনুমতি না পেলে চলতি মাসের শেষ দিকে তারা শপথ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন সুলতান মনসুর।

গণফোরামের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণের বিষয়ে মরিয়া। তারা দফায় দফায় দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। শপথ গ্রহণের জন্য তার গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা বলেন, গণফোরাম ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে রাজপথের আন্দোলনে নামছে। এ অবস্থায় শপথ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

গণফোরামের সদস্যপদ নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ড. কামাল হোসেনকে শ্রদ্ধা করি সব সময়। তিনি একটা কাজে ডেকেছিলেন। সে জন্য স্যারের (ড. কামাল হোসেন) চেম্বারে গিয়েছিলাম। তবে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। সুলতান মনসুর জানান, হাতের ব্যান্ডেজ থাকায় তিনি বাসা থেকে তেমন বের হতে পারছেন না। ব্যান্ডেজ খোলার পর শপথ নেবেন। সেক্ষেত্রে চলতি মাসের শেষের দিকে শপথ নিতে পারেন।

শপথ নেওয়ার বিষয়ে অনড় থাকার কথা জানিয়ে মোকাব্বির খান বলেন, ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে প্রায়ই যাই। তার মানে এই নয় যে তাকে শপথ গ্রহণের বিষয়ে রাজি করাতে যাই। তিনি জানান, তার নির্বাচনী এলাকার জনগণ প্রতিদিনই তাকে ফোন করছেন। সংসদে যোগ দেওয়ার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। এলাকার ভোটারসহ সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে কথা বলতে সংসদে যেতে হবে। নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই তিনি শপথ নেবেন। শপথ নিলে নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নে মোকাব্বির খান বলেন, অবশ্যই যেতে পারব। কেউ আটকাতে পারবে না।

‘শপথ গ্রহণের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত হলো তারা সংসদে যাবেন না। এটি ফ্রন্টের অফিশিয়াল বক্তব্য’Ñ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মোকাব্বির খান বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গেছে। এখন এর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ ভোটের আগে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কী সিদ্ধান্ত নিল তার সঙ্গে গণফোরাম একমত নাও হতে পারে।’ তাদের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুইজন প্রায় প্রতিদিনই পৃথক পৃথকভাবে স্যারের (ড. কামাল হোসেন) কাছে যাচ্ছেন তাকে রাজি করানোর জন্য। কিন্তু স্যার তাদের বলেছেন, তোমরা তো নির্বাচিত হওনি। তোমাদের বিজয়ী দেখানো হয়েছে। সরকার তাদের ভোট ডাকাতির সংসদের বৈধতা আদায়ের জন্য নানা লোভ দেখাচ্ছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে তোমাদের কোনো সম্মান থাকবে না। জনগণের কাছে ছোট হয়ে যাবে। স্বার্থপর হয়ে যাবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত