সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কর্ণফুলীর নাব্য সংকট ড্রেজারের অভাবে নদী খননের গতি মন্থর

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:২৯ এএম

কর্ণফুলী নদীর নাব্য ফেরাতে চলমান ‘ক্যাপিটেল ড্রেজিং’ প্রকল্পে কাজের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। চার মাসে ৪০ শতাংশ অগ্রগতির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ। চীন থেকে তিন মাস আগে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি ‘সাকশন ড্রেজার’ পৌঁছানোয় কথা থাকলেও এখনো তা না আসায় খননকাজে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ড্রেজারটি এসে পৌঁছালে কাজে গতি আসবে বলে তাদের আশা।

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, খননের মাধ্যমে কর্ণফুলীর তলদেশ গভীর করতে ২০১১ সালে ‘ক্যাপিটেল ড্রেজিং অ্যান্ড ব্যাংক প্রোটেকশন’ নামে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও আইনি জটিলতায় আটকে যায়। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ নামে প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রায় ২৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পটি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং ও চায়না হারবারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। খনন শেষ হলে কর্ণফুলীতে পাঁচ মিটার গভীরতার জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

এর আওতায় সদরঘাট থেকে উজানের দিকে বাকলিয়া পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা খনন করে ৪৩ লাখ ঘনমিটার পলি ও মাটি তুলে হামিদচর এলাকায় বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ও সদরঘাটে ৪০০ মিটার লাইটারেজ জেটি নির্মাণের জন্য নিচু জায়গা ভরাট করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বাকলিয়া ক্ষেতচরে প্রকল্প এলাকায় দুটি ছোট ড্রেজার বসিয়ে সৎসঙ্গ বিহারের পূর্ব পাশে বিশাল জায়গাজুড়ে নদী থেকে তোলা মাটি ও পলি ফেলা হচ্ছে। লাইটারেজ জেটি এলাকাতেও একটি ড্রেজার দিয়ে মাটি তুলে প্রথমে জেটির ওপর, পরে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

খননকাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার নৌবাহিনীর কমান্ডার এম আরিফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনটি ড্রেজার দিয়ে কর্ণফুলী থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ঘনমিটার মাটি তোলা হচ্ছে। কিন্তু এগুলো নদীর তলদেশে মাটির উপরিভাগে জমে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিকের কারণে ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। এর জন্য দরকার শক্তিশালী ‘সাকসন ড্রেজার’। গত বছর নভেম্বরে চীন থেকে ৩১ ইঞ্চির একটি সাকসন ড্রেজার আসার কথা ছিল। সেটি না আসায় কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি।

তিনি বলেন, ‘চীন থেকে ৩১ জানুয়ারি ড্রেজারটি পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের ১৫ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে তা চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছার কথা রয়েছে। ড্রেজারটিতে যেসব পাইপলাইন সংযুক্ত করা হবে, তা এর মধ্যে চলে এসেছে। কোথায় কীভাবে তা বসানো হবে তার নকশাও তৈরি করা হয়েছে। ড্রেজার এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা খননকাজে যুক্ত করা হবে। জুনের মধ্যেই খননকাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’

কাজ শুরুর পর প্রথম চার মাসে কাজের ৪০ শতাংশ অগ্রগতির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত ১৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, সদরঘাট এলাকায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ লাইটারেজ জেটি তৈরির কথা রয়েছে। সেখানে ১০০ মিটার জেটির কাজ শেষ হয়েছে। এপ্রিলের আগে পুরো জেটির কাজ শেষ হবে। নতুন সাকশন ড্রেজার আসার পর কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলীতে মিন-সি লেবেল (ভাটার পর নদীর পানি যেখানে স্থির হয়) থেকে নিচে চার মিটার পর্যন্ত মাটি উত্তোলন করা হবে। একই সঙ্গে ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর তিন বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যাতে নতুন করে পলি জমে নাব্য হ্রাস না পায়।

কর্ণফুলী নদীর নাব্য বাড়াতে ২০১১ সালে ‘ক্যাপিটেল ড্রেজিং অ্যান্ড ব্যাংক প্রোটেকশন’ নামে ২২৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেলে বন্দর তাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে। পরে ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে বন্দর কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে প্রায় পাঁচ বছর কর্ণফুলীতে খননকাজ বন্ধ থাকে। এর মধ্যে প্রচুর পলি জমে নদীর বিভিন্ন অংশে জেগে উঠেছে চর। পরে বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে নতুন এই প্রকল্প নেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত