সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাদল ফরাজির মুক্তি

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কারা কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৪ এএম

ভারতে জনৈক বাদল সিং সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি বাগেরহাটের বাদল ফরাজিকে মুক্তি দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে কারা কর্র্তৃপক্ষ। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইকবাল বলেন, ‘আমরা জানি বাদল ফরাজি নির্দোষ। কিন্তু আমরা কোন প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্তি দেব, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। সিদ্ধান্ত পেলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।’

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাগেরহাটের ছেলে বাদল ফরাজি ২০০৮ সালে শখের বশে সীমান্তে ঘুরতে যান। তাজমহল দেখার জন্য বেনাপোল সীমান্ত পার হতেই তাকে বাদল সিং সন্দেহে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তাকে একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সময় বাদলের বয়স ছিল ১৮ বছর। দীর্ঘ ১১ বছর তিনি কারাগারে। কারাগারেই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পাস করেছেন। সেখানেই শুরু করেন ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা। স্নাতকের পর আটটি কোর্সও করেছেন।

কারা কর্মকর্তারা আরও জানান, বাদল সিং দিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধা খুনের মামলার আসামি। কিন্তু ইংরেজি না জানায় বাদল ফরাজি বিএসএফ সদস্যদের বোঝাতে পারেননি যে, তিনি বাদল সিং নন, বাদল ফরাজি।

দিল্লির একটি আদালত ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। দিল্লি হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও আগের রায় বহাল থাকে।

বাদল ছিলেন তিহার কারাগারের ৩ নম্বর সেলে। সেখানে বন্দিদের কাউন্সেলিং করতে আসা মানবাধিকারকর্মী রাহুল কাপুরের সঙ্গে কথা হয় তার। ঘটনা শুনে বাদলকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন রাহুল। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারের চেষ্টায় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ভারত তাকে ফেরত পাঠালেও তিনি এখনো মুক্তি পাননি। ভারতের আদালতে দণ্ডিত হওয়ায় তিনি কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার বলেন, ‘ভারতের দণ্ডবিধি অনুযায়ী বাদলের ১৪ বছর সাজা হয়েছে। তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে। এখন কোন আইনে কীভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে, বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। তিনি যে নির্দোষ, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত। তাই মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। এখন আমরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বাদলের মুক্তির বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলব। কীভাবে তাকে মুক্ত করা যায়, তার একটা উপায় বের করতে হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত