সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে গৃহকর্মী রাহেনা

পায়ের রগ কেটে, দাঁত তুলে ব্রিজের নিচে ফেলা হয় তাকে

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৯ এএম

কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভনে রাহেনা আক্তারকে (২৯) নোয়াখালী সদরে এনে এক বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেয় রীনা আক্তার। চার মাস পর ফিরে যেতে চাইলে রাহেনার ওপর শুরু হয় বর্বর নির্যাতন। এক পর্যায়ে তার চারটি দাঁত, হাত ও পায়ের নখ তুলে নেওয়া হয়। পায়ের রগ কাটা ও শরীরে গরম পানি ঢালার পর মৃত ভেবে তাকে চট্টগ্রামে একটি ব্রিজের নিচে ফেলে দেয় নির্যাতনকারীরা। এ ঘটনায় করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নির্যাতিত রাহেনা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তার ভাই জাকির হোসেন জানান, চার মাস আগে একই উপজেলার পূর্ব ফরিদপুর গ্রামের বুলবুলের স্ত্রী রীনা আক্তার চৌমুহনী গ্লোব কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাহেনাকে নোয়াখালী সদরে নিয়ে যায়। পরে পৌর এলাকার চন্দ্রপুর গ্রামে মিজানুর রহমানের বাসায় মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মীর কাজে দেয়। দুই মাস পর রাহেনার ওপর কুদৃষ্টি পড়ে গৃহস্বামীর। এ ঘটনায় গৃহকর্ত্রী আলেয়া রাহেনকে সন্দেহ ও মারধর করেন। এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও ঝগড়া হয়। এরই জেরে রাহেনা আর কাজ করবে না জানিয়ে বেতন দাবি করে।

কাজ ছেড়ে দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির পর জানুয়ারির ২৪ তারিখ রাতে রাহেনাকে মারধর করা হয়। রাহেনার দাঁত, হাত ও পায়ের নখ তুলে ফেলে রীনা। এরপর আসামিরা তার পায়ের রগ কেটে স্টোররুমে আটকে রাখে। পরদিন রাহেনার জ্বর এলে তার শরীরে গরম পানি ঢেলে বিভিন্ন স্থান ঝলসে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাহেনাকে স্টোররুমে আটকে রাখা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় জ্ঞান হারালে রাহেনাকে মৃত ভেবে মাইক্রোবাস নিয়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন জ্ঞান ফিরলে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে জাকিরকে কল দিলে তিনি রাহেনাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার হাত-পায়ের নখ ও শরীরের ঝলসে যাওয়া বিভিন্ন স্থানে পচন ধরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ তারিখ রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেদিনই জাকির হোসেন বাদী হয়ে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরদিন আসামি রীনা আক্তার, মিজানুর রহমান, আলেয়া বেগম ও শাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুধারাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সাইফুল আলম জানান, আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তাদের ৭ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত