সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৮০% দুর্ঘটনার কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বেপরোয়া চালক

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৬ এএম

দেশের সড়কে মোট দুর্ঘটনার ৮০ শতাংশই ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে ঘটছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার সড়ক দুর্ঘটনার ওপর গবেষণা করেছি। এ সময় ২২৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২১৫ জন। সেখানেও দুর্ঘটনার কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানো।

গতকাল আদালতে দেওয়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) দেশের যানবাহন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমন তথ্য দেন বুয়েটের এই বিশেষজ্ঞ। তবে এই প্রতিবেদনকে অসম্পূর্ণ বলে দাবি করেছেন রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালতে দেওয়া বিআরটিএর প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ। আমরা পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আনব।

বিআরটিএর এই প্রতিবেদন বিজ্ঞানসম্মত কি না সে প্রশ্ন তুলেছেন বুয়েটের অধ্যাপক ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিআরটিএর এই জরিপের মান কী সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি যদি শুধু বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ির বেলায় হয়, তাহলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন যেসব গাড়ি রয়েছে যেমন নসিমন করিমন সেগুলোর বিষয়ে করণীয় কী? একশ পরিদর্শক দিয়ে চোখের দেখায় গাড়ির ফিটনেস নির্ধারণ করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গতÑ তা ভেবে দেখতে হবে।
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের গাড়ি যেমনÑ নসিমন করিমন নিয়ে আমরা খুব ঝুঁকির মধ্যে আছি। প্রতিনিয়তই এসব গাড়ির জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দূরের কথা, চালক ও গাড়ির কোনো নিবন্ধনও নেই। বিআরটিএ তো এসব কাগজপত্র ও ফিটনেস সনদ দেয় না, তাহলে এসব গাড়ি সড়কে চলে কীভাবে? গাড়ির ফিটনেস দেখার পাশাপাশি এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ির বিষয়েও ভেবে দেখতে হবে।

বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেনÑ বিআরটিএর প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বলতে হয়, যে ৩৩ ভাগ গাড়ির ফিটনেস নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই গাড়িগুলোর ফিটনেস নেই কেন? এর দায়দায়িত্ব কে নেবে? কীভাবে এই গাড়িগুলো সড়কে চলছে? এর জবাব কে দেবে? বিআরটিএ তো এর সরকারি কর্তৃপক্ষ। এখন সরকারি সংস্থাই এসে বলছে, এটা নেই ওটা নেই। তার মানে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, সড়কে যে বিশৃঙ্খলা, তার দায়িত্ব কেউ নিতে রাজি নয়। এখানে দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন যতদিন পর্যন্ত দায়বদ্ধতা না থাকবে, ততদিন পর্যন্ত পরিবর্তন হবে না। যদি কেউ দায়িত্ব পালন না করে পার পেয়ে যায়, তাহলে তো তার জন্যই ভালো। যেখানে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি নির্দেশনার কথা বলেছিলেন সেটারও কিছু হলো না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত