সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিতর্কিত মেলপাসকে বিশ্বব্যাংকে পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৩১ এএম

অনুগত ডেভিড মেলপাসকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকালে ট্রাম্পের সিনিয়র অর্থনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মেলপাস বিভিন্ন সময় বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হতে হলে সংস্থাটির ২৫ সদস্যের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন পেতে হবেতাকে। বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী বোর্ডের ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের ভোট ১৬ ভাগ। তা সত্ত্বেও এটা এক ধরনের রেওয়াজ হয়ে গেছে যে, দেশটি যাকে চায় তিনিই বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হন। জাপানের পরে বিশ্বব্যাংকের তৃতীয় বড় শেয়ারহোল্ডার চীনের সঙ্গে সাড়ে ৪ শতাংশ ভোটিং ক্ষমতা।

৬২ বছর বয়সী মেলপাস রিগ্যান ও জর্জ ওয়াকার বুশের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিত ইউএস ট্রেজারি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিয়ার স্ট্যানর্স ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে বিশ্বমন্দায় ব্যাংকটি ধসে পড়ার আগ পর্যন্ত ১৫ বছর এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

২০০৭ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক কলামে তিনি বিনিয়োগকারীদের ভীত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। মন্দা শুরুর সময় তিনি ওই কলামে লিখেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আবাসন খাত বড় কোনো বিষয় নয়। আগামী মাস ও বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্তভাবেই এগোবে। এরপরই মন্দা ভয়াবহ রূপ নিলে তার সমালোচনা বাড়তে থাকে দেশজুড়ে। ওই সময় নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত কলামে তাকে ‘দলবাজ রিপাবলিকান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।২০০৮ সালে বিয়ার স্ট্যানর্স ব্যাংক থেকে বিদায়ের পর ইনসিমা গ্লোবাল নামে একটি গবেষণা সংস্থা গড়েন মেলপাস। ২০১৭ সালে মেলপাস আবারও ইউএস ট্রেজারিতে ‘আন্ডার সেক্রেটারি ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স’-এর দায়িত্ব পান। তখন থেকেই মেলপাস চীনে ঋণ দেওয়া বন্ধে বিশ্বব্যাংককে চাপ দেওয়া শুরু করেন। তার যুক্তি হলো, চীন এতটা সম্পদশালী যে দেশটির আর সহায়তার দরকার নেই। বরং ওই অর্থ অন্য দেশে দেওয়া ভালো। গত বছর বিশ্বব্যাংকের ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা সংস্কার কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখেন তিনি।

ডেভিড মেলপাসকে ট্রাম্প মনোনয়ন দেওয়ার পর সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো জাস্টিন সানদেফার বিবিসিকে বলেন, মেলপাসকে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন একটি বৈশ্বিক সংস্থাকে ছোট করার চেষ্টা করছে। তিনি অন্য দেশগুলোকে বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার আহ্বান জানান।

‘তাদের একটি পছন্দ আছে। এটি খুবই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত হয়। এই নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভেটো ক্ষমতা নেই এবং আরও অনেক ভালো প্রার্থীও রয়েছে যোগ করেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত