বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘অনিয়মের প্রতিবাদ করায় মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে হত্যা’

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৩৭ এএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কাজে অর্থ বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, রূপপুর প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কাজে স্থানীয় একটি চক্রের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করে কিছুদিন আগে তাদের রোষানলে পড়েন সেলিম। তাই ‘পথের দূর করতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সেলিমের মেয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধে তার এক সহযোদ্ধাসহ এলাকার বেশ কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে এমনটাই বলেছেন।   

সেলিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের রূপপুর পাকার মোড়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। সমাবেশ থেকে সেলিম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পাকশীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

গত বুধবার রাতে ঈশ্বরদীর রূপপুর বিবিসি বাজার থেকে ফেরার পথে বাড়ির সামনে মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে সেলিমের সহযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফান্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সেলিম মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন প্রথম সারির যোদ্ধা। সব সময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের অর্থ বিতরণে সব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ তিনি করেছেন। এই প্রকল্পের অর্থ বিতরণে অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রতিবাদী কণ্ঠ রুদ্ধ করতেই লুটেরা সিন্ডিকেট এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

নিহত সেলিমের মেয়ে সানজানা রহমান বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের টাকা (রূপপুর) বিতরণের ক্ষেত্রে আমরা বঞ্চিত হয়েছি, কম টাকা পেয়েছি। এরপরও বাবাকে প্রতিবাদ করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তার এমন পরিণতি হবে তা আমরা ভাবিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ তিনি করতেন। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই আমরা বাবাকে বাড়ি থেকে দূরে কোথাও যেতে দেই না। কখনোই ভাবিনি বাড়ির দরজায় তাকে এভাবে গুলি করে হত্যা করা হবে।’

ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যার পরপরই গোয়েন্দা পুলিশ, পিবিআই, র‌্যাবসহ পুলিশের সব ইউনিট মাঠে নেমেছে। আমরা সব খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখছি। দোষীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত