শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাই রাজকুমারী

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৪২ পিএম

চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সামনে রেখে থাইল্যান্ডের রাজার বোনকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে দেশটির একটি রাজনৈতিক দল। এর মধ্য দিয়ে কর্র্তৃত্ববাদী শাসনে থাকা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশ করল জনগণের কাছে পূজনীয় রাজপরিবার।

সিএনএনের খবরে জানানো হয়, রাজা বাজিরালংকর্নের বড় বোন ৬৭ বছর বয়সী রাজকুমারী উবুলরত রাজকন্যা থাই রক্ষা চার্ট পার্টির হয়ে নির্বাচনে লড়বেন। দলটি ২০০৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে জোট বেঁধেছে। তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন সামরিক জান্তা-সমর্থিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা।

গতকাল শুক্রবার নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রায়ুত চান। একই দিনে থাই রক্ষা চার্ট পার্টির প্রধান লেফটেন্যান্ট প্রিচাপন পংপানিচ এক বিবৃতিতে থাই রাজকুমারীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পংপানিচ বলেন, ‘দলের কার্যনির্বাহী পর্ষদের বৈঠক শেষে আমরা রাজকুমারী উবুলরতকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বী করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি জ্ঞানী ও সামর্থ্যবান মানুষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠক শেষে আমরা তার সঙ্গে দেখা করেছি এবং তিনি সদয় হয়ে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।’

থাইল্যান্ডে ৮৬ বছর আগে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়। এর পরও দেশটিতে রাজপরিবারের কোনো সদস্যের প্রার্থিতা নজিরবিহীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগে সমর্থন দিতে পারেন থাইল্যান্ডের নতুন রাজা, যার অভিষেক হচ্ছে ৪ থেকে ৬ মের মধ্যে। থাইল্যান্ডের নারেসুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ পল চেম্বার্স বলেন, ‘এটা ঐতিহাসিক। আমি মনে করি, দেশজুড়ে ব্যক্তিগত ক্ষমতা আরও পোক্ত করতে এটি বর্তমান রাজার পরিকল্পনার অংশ।’

গত পাঁচ বছর ধরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রায়ুতের নেতৃত্বে চলেছে থাইল্যান্ড। এমন বাস্তবতায় ২৪ মার্চ অনুষ্ঠেয় ভোটকে বৈধ কতৃত্ববাদী শাসনের সঙ্গে গণতন্ত্রের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। উবুলরতের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। এটি জান্তা-সমর্থিত দলগুলোর প্রতি বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত