সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দেশে প্রথম বিদেশির কিডনি প্রতিস্থাপন

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:০৬ এএম

‘অ্যানুয়াল গ্লোবাল রিটায়ারমেন্ট ইনডেক্সে’ স্বাস্থ্যসেবায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বে টানা তিনবার শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়া। চলতি বছরও দেশটি তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে।  সেই মালয়েশিয়ার নারী রোজ লায়লা বিনতে মোহাম্মদ কিডনি প্রতিস্থাপন করতে স্বামীর সঙ্গে আসেন বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন শেষে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসিমুখে দেশে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে তিনি বলেন, ‘এখানকার চিকিৎসায় আমি খুবই খুশি। দ্রুত সময়ে নিরাপদে আমি নতুন জীবন ফিরে পেলাম।  এজন্য বাংলাদেশের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ।’

বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও কিডনি প্রতিস্থাপন দলের প্রধান ডা. হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো বিদেশির কিডনি প্রতিস্থাপন এটাই প্রথম। বিশেষ করে ডোনার ও কিডনি প্রতিস্থাপনকারী একই দেশের অর্থাৎ মালয়েশিয়ার। যিনি কিডনি দিয়েছেন তিনি কিডনি প্রতিস্থাপনকারীর বোন। প্রতিস্থাপন খুবই সফল হয়েছে। সাধারণত প্রতিস্থাপনের পর ডোনার এবং রোগীকে একটা দীর্ঘ সময় পোস্ট অপারেটিভ চিকিৎসায় রাখতে হয়। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই আমরা পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছি। রোগী ও ডোনার উভয়েই সুস্থ আছেন।’

এই চিকিৎসক আরও জানান, ‘কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা পোহাতে হয়নি আমাদের। আইন মেনেই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হলো।’

লায়লার স্বামী চাঁদপুরের সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিই বাংলাদেশে এসে কিডনি প্রতিস্থাপনের। আমার স্ত্রীর বড় বোন রোহানি বিনতে মোহাম্মদ একটি কিডনি ছোট বোনকে দেওয়ার আগ্রহ দেখান। বাংলাদেশে এসে আমরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করি। এ হাসপাতালের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের সমন্বয়ে এসব প্রক্রিয়া ও চিকিৎসার মাধ্যমে গত ৫ জানুয়ারি লায়লার শরীরে তার বোনের দেওয়া একটি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত