শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রুটি-আখের গুড় থেকে মুক্তি মিলছে কয়েদিদের

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:১৮ এএম

দেড়শ বছর ধরে দেশের জেলখানায় আটক কয়েদিদের সকালের নাশতা নি¤œমানের গমের রুটি আর আখের গুড়। খুব শিগগির সকালের নাশতার মেন্যুতে পরিবর্তন আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি অনুমোদন দিয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থছাড়ের অপেক্ষায়।নতুন মেন্যুতে সকালের নাশতায় সপ্তাহের দুদিন খিচুড়ি, চারদিন রুটি-সবজি ও বাকি একদিন হালুয়া রুটি থাকবে তাদের জন্য।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধু খাবারের মেন্যুতেই নয় আওয়ামী লীগ সরকার কারাগারকে সংশোধনাগার করছে। কয়েদিরা যেন বেরিয়ে এসে আর অপরাধপ্রবণ না হয় সেই উদ্যোগ নিচ্ছি। বিভিন্ন সময়ে জেলখানায় নিম্নমানের খাবার নিয়ে কয়েদিদের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগির পরিবর্তন আসবে। আরও অনেক কিছুই থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কারা অধিদপ্তরের একটি সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তাতে ১৫৫ বছর আগের খাবারের সে মেন্যু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি যোগদানের পর থেকেই শুনে আসছেন খাবারের মান নিয়ে সব সময়ই কয়েদিরা অভিযোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘১৮৬৪ সালে বেঙ্গল কারাবিধি অনুসারে কয়েদিদের

সকালের নাশতাায় রুটি ও আখের গুড় পরিবেশন করা হচ্ছে। কয়েদিদের অভিযোগকে আমলে নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ মেন্যু পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। এখন অনুমোদনের অপেক্ষা করছি।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার রংপুর কারাগার পরিদর্শনে গেলে কয়েদিরা তার কাছে সকালের নাশতা নিয়ে মানবিক আবেদন জানান। তিনি বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ বলেন বিবেচনা করতে। কারা কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত একটি সুপারিশ তৈরি করে গত বছরের মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। মন্ত্রণালয় এটি অনুমোদন করে এবং প্রয়োজনীয় অর্থছাড়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ ছাড় না করায় বিদায়ী সরকারের সময়ে মেন্যুতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন সরকার শিগগির উদ্যোগ নেবে।

জানা গেছে, এর জন্য অতিরিক্ত ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। বর্তমানে ৪০ হাজার কয়েদির সক্ষমতার বিপরীতে দেশব্যাপী জেলখানায় ৯০ হাজার কয়েদির জন্য নাশতার বাজেট ২৪৪ কোটি টাকা। 

আইন ও শালিস কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক নুর খান লিটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারাগারকে উন্নত করতে আমরা অনেক দিন ধরেই সুপারিশ করছি। খুবই নি¤œমানের খাবার দেওয়া হয়। সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক। খাবারের পাশাপাশি কয়েদিদের থাকা এবং ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনলে  আরও ভালো হয়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত