শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জেল খাটল জাহালম,খোঁজ নেই আসামির

পঞ্চগড়ে সালেকের সম্পত্তি নির্দেশনার অপেক্ষায় প্রশাসন

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৬ এএম

সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের ৩৩ মামলার আসামি আবু সালেকের বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে পঞ্চগড়ে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালেকের খোঁজ না মিললেও বোদা উপজেলায় তার স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এ বিষয়ে হাইকোর্ট বা দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দুদকের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় সালেকের পরিবর্তে তিন বছর জেল খেটেছেন পাটকলকর্মী টাঙ্গাইলের জাহালম। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে জাহালমের মুক্তির পর পঞ্চগড়ে সালেকের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ মেলে। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগেও বোদা উপজেলা সদরে সালেককে ঘুরতে দেখা গেছে। সদরের প্রামাণিকপাড়ায় তার ও স্বজনদের বাড়ি রয়েছে। দুই এলাকায় সালেকের ৪০ শতক জমি, একটি একতলা বাড়ি ও টেলিভিশনের শো-রুম পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বোদা থানার ওসি আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলায় আবু সালেকের সম্পদগড়ার সংবাদ পেয়ে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। কিছু সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। লোকমুখে জানা গেছে, সে আশপাশের কোনো দেশে পালিয়ে আছে। তবে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা না আসায় তার সম্পদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’ ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ নির্দেশনা না দেওয়ায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সম্পদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজা।সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরে আবু সালেকের একটি স্যামসাং টেলিভিশনের শো-রুম রয়েছে। গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। বোদা পৌরসভা এলাকার প্রামাণিকপাড়ায় প্রায় ২০ শতক জমিতে একতলা বাড়ি রয়েছে তার। কিছুদিন আগে সেখানে ভাড়াটে থাকলেও বর্তমানে গেটে তালা দেওয়া দেখা যায়। পৌরসভার সিপাহীপাড়ায় সালেকের ২০ শতক জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে একটি বেকারি।‘ঢাকা বেকারি’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহীন আলম বলেন, তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন সালেক। বেকারি নির্মাণের খরচ জামানত হিসেবে ভাড়ার চুক্তিতে উল্লেখ করার কথা থাকলেও আবু সালেক তা অস্বীকার করেন। কারখানা নির্মাণে সাড়ে ৮ লাখ টাকা খরচ হলেও চুক্তিপত্রে অগ্রিম ভাড়া হিসেবে মাত্র দেড় লাখ টাকা উল্লেখ করেন সালেক। তিনি বলেন, ‘আমি গরু-ছাগল বিক্রি করে বেকারি নির্মাণ করেছি। এই টাকা ফেরত না পেলে পথে বসব।’

হঠাৎ জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের টাকার উৎসের ব্যাপারে আবু সালেক শেয়ার, দুধের ব্যবসা ও পোশাক-কারখানায় খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা স্বজনদের জানিয়েছেন বলে দাবি করছেন তারা। আবু সালেকের ভগ্নিপতি ও সমসেরনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক খাদেমুল ইসলাম রমজান বলেন, ‘২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে সে আর আমার বাড়িতে আসেনি। বোদায় সে কিছু জমিজমা কিনেছে শুনেছি। এসবের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত