সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অন্যের নাম-সনদ ব্যবহার করা সেই ভুয়া চিকিৎসক গ্রেপ্তার

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৯ পিএম

অন্য ব্যক্তির নাম সনদ ও বিএমডিসির নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে পাবনার ভাঙ্গুড়ার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে পুলিশ তাকে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ওই ভুয়া চিকিৎসক নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের হাতিখানা গ্রামের শেখ মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে মাসুদ রানা।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ রানা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে পাবনার ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার নামের একটি ক্লিনিকে লক্ষাধিক টাকা বেতনে কর্মরত থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। তিনি ঢাকার ডা. মাসুদ করিম নাম, বিএমডিসির নিবন্ধন নম্বর ও সনদ ব্যবহার করে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করে ভুয়া চিকিৎসককে নীলফামারী জেলা পুলিশের সহায়তায় সৈয়দপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাকে পাবনায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত চিকিৎসক নিজে আমার কাছে এসে বলেছেন তিনি ১৯৯০-৯১ সেশনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এমবিবিএস শেষ করে নিবন্ধন পান বিএমডিসির, যার নিবন্ধন নং ৩৩৩৬০।

বর্তমানে ঢাকার খিলগাঁওয়ে নিজস্ব ডক্টরস চেম্বারে প্রাইভেট চিকিৎসা দেন। স্থায়ী ঠিকানা ফেনীর সোনাগাজী। বাবার নাম আব্দুস শাকুর। বন্ধু চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানতে পেরে পাবনায় ছুটে আসেন তিনি। তার নাম-পরিচয় ও নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একজন চিকিৎসক সেজে কাজ করছেন, বিষয়টি তার কাছে খুবই অপমানজনক বলেও জানান তিনি।

পরে তিনি বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় এবং পাবনা সিভিল সার্জনকে লিখিত অভিযোগ দেন।

ঘটনা জানাজানি হওয়ায় গা ঢাকা দেন কথিত ভুয়া চিকিৎসক মাসুদ রানা। মাসুদ করিম নামে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বিএমএর পাবনা শাখার আজীবন সদস্যও ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনাও হয়।

পরে প্রকৃত ডা. মাসুদ করিম জেলা সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের মালিক আব্দুল জববার জানান, তার কাগজপত্র দেখে কখনও মনে হয়নি তিনি ভুয়া চিকিৎসক। আর তিনি আমার এখানে চাকরি করার আগে পাবনা শহরেও দীর্ঘদিন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত