বাজার নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্র জয়নুলের

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৩ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুরে গ্রামের চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র জয়নুল (১২)। বাবা নূর ইসলাম রোগাক্রান্ত। সংসারে টাকা জোগান দিতে এই বয়সেই পড়াশোনার পাশাপাশি শ্রমিকের কাজ করত। সপ্তাহের চার দিন স্কুলে যেত। বাকি তিন দিন বাবার সঙ্গে কৃষিশ্রমিকের কাজ করত। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বহরমপুরে বিজিবি- গ্রামবাসীর সংঘর্ষে জয়নুলসহ তিন পথচারী গুলিতে নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হন বিজিবির পাঁচ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন।

গতকাল সকালে গ্রামের একটি মাদ্রাসায় আরবি পড়া শেষে বাড়ি ফেরে জয়নুল। বাবা দিনমজুরি করতে যান, কিন্তু ঘরে বাজার ছিল না। মা জোহরা বেগম ২৫০ টাকা দিয়ে উপজেলার যাদুরানী হাটে মাছসহ সবজি কিনতে পাঠান জয়নুলকে।

বহরমপুর থেকে অটোরিকশায় করে ব্যাগ নিয়ে বাজারে যাচ্ছিল জয়নুল। এ সময় জিবিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে অটোরিকশাটি। বিজিবির ছোড়া গুলি লাগে জয়নুলের পায়ে। অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে সে। শরীর থেকে রক্ত পড়তে থাকে। বিজিবি-গ্রামবাসীর সংঘর্ষ শেষে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে পীরগঞ্জ উপজেলায় জয়নুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

জয়নুলের মৃত্যুতে তার বাবা-মা এখন পাগলপ্রায়। তাদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।

নূর ইসলাম এ হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করে বলেন, ‘কী দোষ আমার ছেলের? এর দায় কে নেবে? জয়নুলের অনুপস্থিতিতে আমার অচল সংসার কী করে সামাল দেব? সে এই সংসারে যে সহযোগিতা করেছে তা পূরণ করবে কে? বিলাপ করতে করতে এসব প্রশ্ন করছিলেন জয়নুলের বাবা। মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়ছিলেন তিনি। মাটিতে গড়াগড়ি করে কাঁদছিলেন বাবা-মা।

চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরফান আলী বলেন, সংসারে অভাব তাই জয়নুল সপ্তাহে চার দিন স্কুলে আসত। সে তার বাবার সঙ্গে অন্যের জমিতে কাজ করত।

বকুয়া ইউপির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বর্ষা বলেন, এ ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

হরিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে মারা হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত