রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মাদক মামলার তদন্ত এক মাসের মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশ

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্তকাজ এক মাসের মধ্যে শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত তদারকিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং সব জেলার পুলিশ সুপারকে মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। মাদকের মামলায় ড. নুরুল ইসলাম শেখ নামে একজনের আগাম জামিনের শুনানি শেষে গতকাল মাসের মধ্যে শেষের নির্দেশ মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেয়। হাইকোর্ট বলেছে, মামলার তদন্তকাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ না করা গেলে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নরওয়ে প্রবাসী নুরুল ইসলাম শেখকে গতকাল চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয় এই আদালত। ওই প্রবাসীকে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মামলার আসামি হিসেবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এ কারণে তথ্য প্রদানকারী ও এজাহারকারী গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল হালিমকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহার করতে গাজীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি এসআই আবদুল হালিমকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে।

আদালতে নুরুল ইসলাম শেখের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর এসআই আবদুল হালিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রাজু আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাজু আহমেদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নরওয়ে প্রবাসী ড. নুরুল ইসলামসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। এরপর নুরুল ইসলাম এই মামলায় আগাম জামিন চাইতে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল জানান, শুনানিকালে আদালত দেখতে পায়, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নরওয়ে প্রবাসী এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারী। এই নিয়ে আদালতের মনে খটকা তৈরি হয়। একপর্যায়ে হাইকোর্ট বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গাজীপুরের এসপিকে নির্দেশ দেয়। এর এক সপ্তাহ পরে নুরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর মামলার বাদী জয়দেবপুর থানার এসআই আবদুল হালিমকে তলব করে হাইকোর্ট। আবদুল হালিম আদালতে এসে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্ট এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে। ওই এসআইকে সতর্ক করে তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন আদালতে দীর্ঘদিনেও মাদক ও অস্ত্র মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় আদালত এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করে। আদালত এক আদেশে এখন থেকে মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্তকাজ এক মাসের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে। আর কেউ যদি এই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারে, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে আদেশে।’  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত