সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১৩ এএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, ডিপ্টি মিয়া নামের এক যুবক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে কুমিল্লার হোমনায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে সুভাস চন্দ্র দাস (৫১) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে তাকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের পোস্টমাস্টার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে।

গাইবান্ধার ঘটনায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের রায়দাসবাড়ী চর থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে ওই ছাত্রী স্কুলে যাচ্ছিল। পথে নদসংলগ্ন একটি ভুট্টাক্ষেতে গিদারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গিদারী মধ্যপাড়া গ্রামের ডিপ্টি মিয়া তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে ডিপ্টি মিয়া পালিয়ে যায়।

ঘটনা জানার পর ছাত্রীর পরিবার স্কুলে অভিযোগ দেয়। কিন্তু স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ছাত্রীর পরিবারের। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। সে সময় বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।

গত বছরের ২৩ অক্টোবর ডিপ্টি মিয়ার বড় ভাই আবদুল খালেককে গিদারী ইউনিয়নের ধুতিচোরা গ্রামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। পরে গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ ওই গৃহবধূ মামলা করলে আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন।

ওই ছাত্রী জানায়, তার হাত টেনে ধরে ডিপ্টি ভুট্টাক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে ডিপ্টি পালিয়ে যায়। ছাত্রীর বাবা বলেন, মেয়ের বিষয় নিয়ে তিনি স্কুল কর্র্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিয়েছিলেন। তারা কালক্ষেপণ করেছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনাটি ওই ছাত্রীর বাবা ম্যানেজিং কমিটি ও আমাকে জানিয়েছিল। বার্ষিক বনভোজন ছিল বিধায় তখন তাকে বলা হয়েছিল, বিষয়টি নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারা চরের নিরীহ মানুষ। এসব ভেজালে যেতে চায় না। আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভিকটিম বা তার পরিবার কেউ আমার কাছে আসেনি। এটা যদি ফৌজদারি অপরাধ হয়, তাহলে তারা মামলা করবে। যদি ইভটিজিং করার সময় ধরা পড়ত, তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়া যেত।’

এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের কেউ থানায় আসেনি। তারা এলে এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চিকিৎসক আটক

কুমিল্লার হোমনায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে সুভাস চন্দ্র দাস (৫১) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে তাকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের পোস্টমাস্টার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে।

হোমনা থানার ওসি গোলাম রাব্বি বলেন, উপজেলার দুলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী স্কুল থেকে ফেরার পথে পল্লী চিকিৎসক সুবাস তাকে ‘সিভিট’ দেওয়ার কথা বলে ফার্মেসিতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার বাবা-মায়ের কাছে ঘটনাটি বললে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শরফরাজ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত