রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন

হেডফোন ব্যবহারে এক শ কোটি তরুণ হারাচ্ছে শ্রবণ শক্তি

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:৫৯ পিএম

পৃথিবীব্যাপী প্রায় এক শ কোটি তরুণ স্মার্টফোনে হেডফোন ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এসব তরুণের বয়স ১২ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে সংস্থাটি এমনটা জানায়।   

৩ মার্চ আন্তর্জাতিক শ্রবণ দিবস উপলক্ষে সংস্থাটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

হু'র বধিরতা ও শ্রবণশক্তি হারানো-সংক্রান্ত গবেষণায় যুক্ত ড. শেলি ছন্দা বলেন, 'প্রায় এক শ কোটি তরুণ যা করতে পছন্দ করছে তা তাদের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। তারা একটানা অনেকক্ষণ গান শুনে যাচ্ছে কানে হেডফোন দিয়ে'। 

হু ও আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) যৌথ উদ্যোগে তরুণদের এ বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বিশ্বের ৫০ শতাংশ তরুণ নিজের ইচ্ছামতো যন্ত্রে মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দিয়ে গান শুনছে। এ-সংক্রান্ত রোগে বিশ্বে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার চিকিৎসার পেছনে খরচ হচ্ছে।

ছন্দা বলেন, এটা অনেকটা এমন বিষয় যে সড়কে গতি নির্ধারক ছাড়াই যেন তারা গাড়ি চালাচ্ছে। এ জন্য এমন একটি প্রযুক্তি প্রয়োজন যা নির্দেশ করবে যে কী মাত্রায় শব্দ আমার প্রয়োজন আর কী মাত্রায় আমি শুনে আসছি।

জাতিসংঘ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শব্দ নিয়ন্ত্রক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে কাজ করে আসছে। এর ব্যবহার নিয়ে সরকার, ভোক্তা ও সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনাও করেছে সংস্থাটি। 

ব্যক্তি পর্যায়েও যেন এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় সে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।  

ড. ছন্দা বলেন, যা আমরা চাই তা হলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত শব্দ বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা এমন মাত্রায় শব্দ সীমিত রাখা যা কানের ক্ষতি করবে না।

হু'র হিসাব মতে, বিশ্বে প্রতি বিশজনে একজন মানুষ শ্রবণশক্তি হারানোর সমস্যায় ভোগে। যাদের বেশিরভাগই দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে। ২০৫০ সাল নাগাদ অন্তত ৯০ কোটি মানুষ গুরুতরভাবে কানে না শোনার সমস্যায় ভুগবে।

হু’র মহাসচিব তেদ্রো আবাম জেবরেয়ুস বলেন, এভাবে তরুণদের তাদের শ্রবণশক্তি হারাতে দেওয়া যাবে না। আমাদের এমন প্রযুক্তি বের করতে হবে যার মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত