রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এডিপির সংশোধনী চূড়ান্ত

বরাদ্দ বাড়ছে ১৩ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১০ এএম

অর্থ খরচে নয়ছয় করতে না পেরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি থেকে ৯ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ সহায়তা ফিরিয়ে দিয়ে সরকারের তহবিল থেকে ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি নতুন করে বরাদ্দ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়গুলো। উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা মোতাবেক ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপির সংশোধন চূড়ান্ত করেছে সরকার। এতে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা।  

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, প্রতি বছরের বাজেটে উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বছরের মাঝপথে এসে এই বরাদ্দ কাটছাঁট করার রীতি আছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতির ওপর নির্ভর করে নিজেদের বরাদ্দ এদিক-সেদিক করে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। এরই অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ বাড়ানো-কমানো হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেক মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক অংশে বরাদ্দ কমলেও দেশি অংশে বরাদ্দ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের বরাদ্দের বিষয়টি পরিকল্পনা কমিশন চূড়ান্ত করে না। এজন্য স্থানীয় সরকার ও বৈদেশিক অংশের বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশি অংশে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ বাড়ছে ২২ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক অংশে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ কমছে ৯ হাজার কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব খলিলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ মাসের শেষের দিকে এনইসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেখানে সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদার ভিত্তিতেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর সামর্থ্য ও সক্ষমতা বিবেচনা করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

বাড়তি বরাদ্দের মধ্যে সড়ক ও মহাসড়ক খাতে বাড়ছে ৫ হাজার ৭৯৭ কোটি, বিদ্যুৎ খাতে ৪ হাজার কোটি, গৃহায়ন খাতে ২ হাজার ২৯৫ কোটি, স্থানীয় সরকারে ৪ হাজার ৭০ কোটি, নৌপরিবহনে ১ হাজার ৬০০ কোটি, শিক্ষা খাতে ১ হাজার ৬০০ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ১০০ কোটি, নির্বাচন কমিশনে ২ হাজার ৪০০ কোটি, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ২০০ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ৩৭২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে বরাদ্দ কমছে কয়েকটি খাতে। এর মধ্যে রয়েছে সেতু বিভাগে আড়াই হাজার কোটি, রেল বিভাগে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিপি সংশোধনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ৬ মাসের বাস্তবায়নের চিত্র দেখা হয়। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে,  চলতি  অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে এডিপি বরাদ্দ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ব্যয় মোট বরাদ্দের ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে সরকার এডিপি বরাদ্দের মাত্র ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা ব্যয় করতে পেরেছিল, যা ছিল ওই বছরের মোট বরাদ্দের ৩২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত