মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চান মার্কিন আইনপ্রণেতারা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৩ এএম

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। হাউস অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এলিয়ট এল. এঙ্গেল, কমিটির সদস্য মাইকেল টি. ম্যাককাউল, এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ব্র্যাড শেরম্যান, সাব-কমিটির সদস্য টেড ইয়োহো ছাড়াও আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে ওই চিঠি পাঠান। চিঠিতে তারা বাংলাদেশের ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ভোটারদের ওপর দমন-পীড়নের বিপরীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

আইনপ্রণেতারা চিঠিতে লেখেন, ‘এ বছর এশিয়ার আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অঙ্গীকার ও শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে আসা উচিত।’

চিঠিতে মাইক পম্পেওকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, ‘ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে ওই অঞ্চলের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারকে সমর্থন দেওয়া জরুরি। বাংলাদেশের ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থগুলোকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলবে।’

বাংলাদেশের শক্তিশালী ও গৌরবময় গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে হাউস কমিটির চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রচারণার সময় সহিংসতা, গণ-গ্রেপ্তার এবং বাকস্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। ২০১৪ সালে বিরোধীদের নির্বাচন বয়কটের মুখেও আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা প্রাপ্ত আসনের চেয়েও এবার বেশি আসন পেয়েছে। মোট আসনের ৯৬ শতাংশ পেয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের।’

সরকার নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনকে বৈধ আখ্যা দিয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনে জালিয়াতি এবং ভোটারদের দমন-পীড়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। মিডিয়ার মতে, সারা দেশে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট শুরু হয়, তখন সাংবাদিকরা কিছু ব্যালট বক্স সন্দেহজনকভাবে পূর্ণ দেখতে পান। আরও রিপোর্ট আছে যে, আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে দুপুরের খাবারের জন্য অথবা ব্যালট পেপার শেষ হয়েছে এই দাবি করে কিছু মানুষকে ভোট দিতে বাধা দিয়েছে। কিছু ভোটার জানিয়েছে তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সরকার অধিকাংশ আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলকে ভিসা দেয়নি। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত সংস্থাও ছিল।’

ট্রাম্প প্রশাসনকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্রের সুরক্ষা’য় সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত