সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব-ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মাইন অপসারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটালিয়নের প্রায় ১ হাজার ৮০০ সেনাসদস্য অংশ নিতে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রিয়াদে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, ‘ডিফেন্স কো-অপারেশন বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড সৌদি অ্যারাবিয়া’ নামের সমঝোতা চুক্তিটিতে বাংলাদেশের পক্ষেস্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান। সৌদি আরবের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ জেনারেল স্টাফ।
বলা হয়েছে, চুক্তিটি অবশ্য পালনীয় নয়। অর্থাৎ চুক্তি করা হলেও এর সব ধারা মানতে বাধ্য হবে না বাংলাদেশ। এ চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক জানান, চুক্তিটিতে বিবেচনায় থাকবে তিনটি বিষয়Ñ অ্যাডভাইজরি, মাইন সুইপিং ও সিভিল কন্সট্রাকশন। তিনি বলেন, এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব-ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মাইন অপসারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটালিয়নের প্রায় ১ হাজার ৮০০ সেনাসদস্য অংশ নিতে পারেন। তবে কোনো অবস্থাতেই জাতিসংঘ বাহিনীর অংশ হওয়া ছাড়া বিদেশের অন্য কোনো ক্ষেত্রে বা রণাঙ্গনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী অংশ নেবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নীতির কথা গত বুধবার আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মের সর্বোচ্চ তীর্থস্থান মক্কা বা মদিনায় হামলার ঘটনা ঘটলে জাতিসংঘ বাহিনী ছাড়াও সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারে বাংলাদেশ।
এছাড়াও সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক, বেসামরিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অংশ নিতে পারে। চুক্তির আওতায় সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক খাতে নিয়োজিত করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী জেনারেল আজিজ আহমেদ সৌদি আরব সফর করেন এবং সে সময়ই এই চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ওই সফর সম্পর্কে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদে সৌদি আরবের সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আয়েশের সঙ্গেও বৈঠক করেন সেনাবাহিনীপ্রধান। পরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মাইন অপসারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
