সংঘাতকবলিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শিগগিরই সদর দপ্তর স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ‘আরাকান আর্মি’। মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইরাবতী’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক ভিডিও বার্তায় রাখাইনের জনমানুষের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সশস্ত্র সংগঠনটির প্রধান মেজর জেনারেল তুন মিয়াত নাইং এ ঘোষণা দেন। ‘আরাকান আর্মির’ ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রে ভিডিও বার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত করার তথ্য জানিয়ে ইরাবতীর খবরে
বলা হয়েছে, ওই ভিডিওতে তুন মিয়াত নাইংকে আরাকানিজ ভাষায় একদল গ্রামবাসীর সামনে বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে। এতে শিগগিরই উত্তর রাখাইনে সংগঠনের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি। এ ছাড়া বাইরে বসবাসরত আরাকানের নাগরিকদের রাখাইনে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাখাইনের মানুষ এই অঞ্চলে একটি নতুন ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছে। সেখানে সবার অংশগ্রহণ জরুরি।
গত ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির চৌকিতে হামলায় ১৩ জন নিহতের পর ‘আরাকান আর্মির’ বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে দেশটির সেনাবাহিনী; তখন থেকে দু’পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। এরপর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাখাইনের অনেক মানুষ বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী ভারত ও চীন সীমান্তের দিকে পাড়ি জমায়। রাখাইনে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর চলতি মাসে এ নিয়ে দুটি ভিডিও বার্তা দিল ‘আরাকান আর্মি’। গত সপ্তাহে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিয়ো তুন অং একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ‘আরাকান আর্মির’ সঙ্গে সংঘাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শত শত সদস্যকে হারিয়েছে। কিন্তু সম্মানহানির ভয়ে তারা হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করছে না। ‘আরাকান আর্মির’ সঙ্গে লড়াইয়ে না পেরে তারা এখন বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চড়াও হচ্ছে। রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী জনবল বৃদ্ধি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাত এখন উত্তর রাখাইন পেরিয়ে আরও বেশি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আরাকানিদের ক্ষতি করলে ‘চোখের বদলে চোখ তুলে নেওয়া’র নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
