নিউ ইয়র্কে হেডকোয়ার্টার্স বানাবে না অ্যামাজন

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২০ পিএম

নিউ ইয়র্কে হেডকোয়ার্টার্স নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে অবশেষে সরে এসেছে টেক জায়ান্ট অ্যামাজন। স্থানীয়দের প্রবল আপত্তি ও বিক্ষোভের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী জেফ বেজোসের এই প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে অ্যামাজনের মুখপাত্র জোডি শেঠ বলেন, ‘অনেক ভাবনাচিন্তার পর খুব ধীরে-সুস্থে আমরা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাদের হেডকোয়ার্টার্স নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটিতে নির্মিত হচ্ছে না।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এটি পরিষ্কার, স্থানীয় রাজনীতিবিদরা আমাদের উপস্থিতিকে মেনে নেবেন না এবং এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কোনো সম্পর্কও স্থাপন করবেন না।’

অ্যামাজন তাদের দ্বিতীয় হেডকোয়ার্টার্স নির্মাণের জন্য অনেক খোঁজাখুঁজির পর গত নভেম্বরে নিউ ইয়র্ক সিটি কিংবা ভার্জিনিয়াকে নির্বাচন করেছিল। হেডকোয়ার্টার্স পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২৫ হাজার কর্মী এই দুই শহরে সহজেই পাওয়া যেত।

অ্যামাজনের হেডকোয়ার্টার্স নির্মাণের ঘোষণাকে নিউইয়র্কের গভর্নর এন্ড্রু কুমোসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগের জন্যই তারা ইতিবাচক মনোভব দেখিয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, বিভিন্ন প্রযুক্তি হাব গঠনের মাধ্যমে সিলিকন ভ্যালির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে নিউ ইয়র্ক। কিন্তু সমালোচকরা এরপরই সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা দাবি করে, অ্যামাজন হেডকোয়ার্টার্স স্থাপন করলে নিউ ইয়র্কে আবাসন-সংক্রান্ত ঝামেলার সূত্রপাত হতে পারে। এরপরই স্থানীয় মানুষ অ্যামাজনের এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে এবং প্রতিবাদে মুখর হয়।

শেষ পর্যন্ত হেডকোয়ার্টার্স নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে সরে আসায় নিউ ইয়র্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হতাশা প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাসিও। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক সিটিতে এটি নির্মাণ করতে পারলে ভালোই হতো। আমরা অ্যামাজনকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহরটিতে আমাদের ভালো প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম।’ নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি বলেন, ‘আমি খুব হতাশ। নিউ ইয়র্কে ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ নষ্ট হয়ে গেল। বিপুল বিনিয়োগের কথা না হয় বাদই দিলাম।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত