রাজধানীর সরকারি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই ফিরে এসেছেন হাসপাতালে। আগুনে পোড়া স্থানগুলো পর্যায়ক্রমে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। বহির্বিভাগে গতকাল শনিবার থেকে পুরোদমে রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার থেকে শিশুদের ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা।আগুনের কারণ জানতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন) দিলীপ কুমার বোসের নেতৃত্বে একটিপ্রতিনিধি দল গতকাল দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত স্টোর রুম ও ওয়ার্ডগুলো পরিদর্শন করেন। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গেও কথা বলেন।দিলীপ কুমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নার্স ও ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
প্রতিনিধি দলে থাকা এক ফায়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগুন নেভানোর সময় যে ১৪টি ইউনিট অংশ নেয়, আমি তার মধ্যে ছিলাম। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে স্টোর রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখান থেকে আগুন উপরের দিকে ওঠে।’
গতকাল সকালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীর ভিড়। হাসপাতালের প্রবেশমুখে অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা আখতারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে রোগী দেখা শুরু হয়েছে। রোগীর উপস্থিতিও প্রচুর।’ দুপুর দেড়টার দিকে শিশু বিভাগের চিকিৎসক শফিকুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকে প্রায় ৫০ জন রোগী দেখেছি। তবে কাউকেই ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। আগামীকাল (আজ) থেকে শিশুদের ভর্তি করা হবে।’ হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেই দেখা যায়, আগুনে পোড়া স্টোর রুমে চলছে ধোয়া-মোছার কাজ। স্টোর রুমের ভেতরে অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ। সকালেই অপসারণ করা হয়েছে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি।
পরিষ্কার কাজের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের স্যানিটারি পরিদর্শক রুপালি দে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের ৩০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিরলসভাবে কাজ করছে। শুক্রবারের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এভাবে টানা কাজ করলে আশা করছি আগামী তিন দিনের মধ্যে সব পরিষ্কার করা সম্ভব। তবে তদন্তের স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সবকিছু পরিষ্কার করা সম্ভব হবে না।’
এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্ডের রোগীদের অন্যান্য ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় ডা. ফরহাদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘আট নম্বর ওয়ার্ডে আমার রোগী ছিল। এখন পাঁচ নম্বরে আছে। আমার মতো অন্য চিকিৎসকরাও খুঁজে খুঁজে রোগী দেখছেন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।’
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্টোর রুম থেকে হাসপাতালে আগুনের সূত্রপাত হয়। তারপর বিভিন্ন ওয়ার্ডে তা ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে রাতে হাসপাতালে আংশিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।
