পৃথক চার মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরের ৪০ দিন রিমান্ড চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চকবাজার থানার পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল রবিবার চারটি মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড চান দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান। আদালত শুনানি শেষে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। এর আগে এসব মামলায় এমএ কাদেরকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
গত ৩০ জানুয়ারি এমএ কাদেরকে গ্রেপ্তার করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তিনিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের দায়ে মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা। এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি রপ্তানি বিলের বিপরীতে জনতা ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চকবাজার থানায় পৃথক পাঁচটি মামলা করে দুদক। মামলায় কাদেরকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও জনতা ব্যাংকের মোট ২২ কর্মকর্তাকে এসব মমালায় আসামি করা হয়েছে।
গতকাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে পাঠানো পৃথক রিমান্ড প্রতিবেদনগুলোতে দুদক উল্লেখ করেÑ হাজারীবাগের হাজী জমশের আলীর ছেলে এমএ কাদের ক্রিসেন্ট গ্রুপের মূল কর্ণধার। তার ব্যবসায়িক সব কাজ তিনি নিজেই দেখাশোনা করতেন। রপ্তানির আড়ালে জনতা ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করা বিপুল অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করেছেন বা গোপন করেছেন সেসব বিষয়ে তথ্য জানার জন্য বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ আবশ্যক। এই অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবশ্যক।
গত ৩০ জানুয়ারি ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের ও রিমেক্স ফুটওয়্যার এবং জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান এমএ আজিজসহ ২২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় কাদেরের ভাই জাজ মাল্টি মিডিয়ার প্রধান এমএ আজিজকেও আসামি করা হয়েছে।
