নাটোরের সিংড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান এবং আনোয়ার হোসেন ও ইদ্রিস আলী সুমন নামের দুই কেয়ারটেকারকে ঘুষ না দেওয়ায় উপজেলার মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকদের পাঁচ মাস ধরে বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ভেঙে পড়েছে শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও বয়স্কদের গণশিক্ষা কার্যক্রম।
শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে ফিল্ড সুপারভাইজারকে ২০ হাজার করে টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। স্কুল পরিদর্শনে গেলে কেয়ারটেকারদেরকেও ঘুষ দিতে হয়। দীর্ঘ তিন বছর ধরে ওই দুই কেয়ারটেকার স্কুল পরিদর্শনের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, কেয়ারটেকার ইদ্রিস আলী সুমন সিংড়া পৌর ওলামা লীগের সভাপতি হওয়ায় এই শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিতে হয়। সম্প্রতি এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে ওই ফিল্ড সুপারভাইজার দুই কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
সিংড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুস শাকুর জানান, এই কার্যক্রমে কেয়ারটেকারদের মাসিক উৎকোচ না দিলে অনেক শিক্ষকের নানা রকম হয়রানিসহ তাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেয়ারটেকার সুমন তার বাসায় পাঠাগার এবং স্ত্রীর নামে একটি ভুয়া স্কুল খুলে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফিল্ড সুপারভাইজার হাসানুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে (০১৭৫৩-৫৭১৩৯১) যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কেয়ারটেকার ইদ্রিস আলী সুমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। সিংড়ার ইউএনও সুশান্ত কুমার বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
