বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন বাংলাদেশের বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘ধ্রুপদী’র সম্পাদক মুহম্মদ খসরু। হার্টের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা বার্ধক্যজনিত
রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় রাজধানীর শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুহম্মদ খসরু। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল আনুমানিক ৭২ বছর। ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন মঙ্গলবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খসরু ভাইয়ের মরদেহ মঙ্গলবার রাতে বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে। এরপর বুধবার (আজ) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের অপরাজেয় বাংলার সামনে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেরানীগঞ্জের পাশে রোহিতপুরের মোহনপুর গ্রামে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন মুহম্মদ খসরু।’
মুহম্মদ খসরুর মৃত্যু খবর জানার পর শোকের ছায়া নেমে আসে চলচ্চিত্র সংসদকর্মীদের মাঝে। হাসপাতালে ছুটে আসেন অনেকেই। তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’-খ্যাত নির্মাতা মসিহউদ্দিন শাকের, ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন। মসিহউদ্দিন শাকের বলেন, ‘আজন্ম আদর্শকে বয়ে চলা একজন মানুষ মুহম্মদ খসরু।’ বেলায়াত হোসেন মামুন বলেন, ‘বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র আন্দোলন, লিটলম্যাগ আন্দোলনসহ নানামুখী সৃজনশীল কর্মতৎপরতায় যে কজন মানুষ আমাদের আলোকিত করেছেন তাদের মধ্যে মুহম্মদ খসরু অন্যতম। তার মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’ মুহম্মদ খসরু চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘ধ্রুপদী’র সম্পাদক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ তিনি। প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার উদ্যোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফিল্ম স্টাডি সেন্টার। কেরালার চিত্রলেখা এবং ওডেসা ফিল্ম কো-অপারেটিভের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে যে ফিল্ম কো-অপারেটিভ গঠিত হয়েছিল, যার মাধ্যমে এই দেশে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ শুরু হয়, সেখানেও মুহম্মদ খসরুর অবদান অনবদ্য। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদের আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটি এবং জাতীয় ফিল্ম আর্কাইভ, যার তাত্ত্বিক নেতাও মুহম্মদ খসরু। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। অনেক দিন ধরেই কেরানীগঞ্জের রোহিতপুরের মোহনপুর গ্রামে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন মুহম্মদ খসরু। সেখানেই কিছুদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
