ভারতের ১০ কোটি আদিবাসী অদৃশ্য ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বলে মত দিয়েছেন একজন ইতিহাসবিদ। বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের পরও তাদের বেশিরভাগ বনবেষ্টিত ও খনিজসম্পদে পূর্ণ রাজ্যগুলোতে শোচনীয় জীবনযাপন করছে। তাদের ৪০ লাখের বেশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে থাকে বলে এক সমীক্ষায় জানানো হয়। এই অঞ্চলগুলো ভারতের মোট ভূখণ্ডের ৫ শতাংশ। এগুলোতে বন্যপ্রাণীর ৫০০ অভয়ারণ্য ও ৯০টি প্রাকৃতিক পার্ক রয়েছে।
বিবিসির খবরে জানানো হয়, ২০০৬ সালের একটি আইন অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত তিন প্রজন্ম ধরে বনে থাকা আদিবাসী ও অন্যদের সেখানে বসবাস ও কাজের বৈধতা দেওয়া হয়। তবে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ে বলা হয়েছে, বনের জমিতে থাকা ১০ লাখের বেশি পরিবারকে দ্রুত তাদের বসতবাড়ি ছাড়তে হবে।
দেশটির ১৭টি রাজ্যের দেওয়া তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট। এ রাজ্যগুলো তিন ধাপে ৪০ লাখের বেশি লোকের যাচাই সম্পন্ন করে। বনের জমিতে থাকা প্রত্যেককে ১৩ ধরনের নথি সরবরাহ করতে হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে বনের জমিতে থাকা ১৮ লাখের মতো লোকের দাবি গ্রহণ করেছে রাজ্যগুলো। এর ফলে বনের ৭২ হাজার বর্গকিলোমিটার (আসাম রাজ্যের সমান) জমির মধ্যে বসবাস করা পরিবারগুলোকে থাকার জায়গা দেওয়া হয়েছে। তবে ১০ লাখের বেশি পরিবারের দাবি অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এ কারণে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে পরিবারগুলো।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক নিতিন শেঠি এ উদ্যোগকে ‘স্বাধীন ভারতে সবচেয়ে বড় পরিসরে, আইনি নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদিবাসীদের উচ্ছেদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত কয়েকটি সংগঠন সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করে। সে আবেদনে বলা হয়, দেশটির সীমিত বনভূমি দখল করা হচ্ছে। বনের অবৈধ দখলদারদের কারণে ঝুঁকিতে থাকা বন্যপ্রাণীগুলোও আরও বিপন্ন হচ্ছে।
ওই সংগঠনগুলো মনে করছে, বনের বিক্ষিপ্ত অংশে লোকজনকে বসবাসের সুযোগ দিলে বড় বন উজাড় হয়ে যাবে এবং জীবজন্তুর বসতি নষ্ট হয়ে যাবে। তারা বলছে, বন আইন অনুযায়ী জাতীয় পার্ক ও অভয়ারণ্যে বসবাস করা পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের সুযোগ রয়েছে। যদিও কাউকেই পুনর্বাসন করা হয়নি।
