নেপালে ছয় নাটকের শ্যুটিং করে ফিরেছি

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২০ এএম

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ। তবে তিনি নাটক আর চলচ্চিত্র দুটিতেই সমান মনোযোগী। নাটক ও সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করছেন তিনি। এ জন্য তার ঝুলিতে রয়েছে ‘মৃত্তিকা মায়া’, ‘ভুবন মাঝি’, ‘সুতপার ঠিকানা’, ‘মেঘমল্লার’ এর মতো প্রশংসিত সিনেমা ও বেশকিছু নাটক। এ তারকার সাক্ষাতকার নিয়েছেন মাসিদ রণ

 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ। তবে তিনি নাটক আর চলচ্চিত্র দুটিতেই সমান মনোযোগী। তাই তো একসঙ্গে নাটক ও সিনেমায় কাজ করছেন তিনি। এ জন্য তার ঝুলিতে রয়েছে ‘মৃত্তিকা মায়া’, ‘ভুবন মাঝি’, ‘সুতপার ঠিকানা’, ‘মেঘমল্লার’ এর মতো প্রশংসিত সিনেমা ও বেশকিছু নাটক। অভিনয়নির্ভর চরিত্রেই তাকে বেশি পাওয়া যায়। এ জন্য দর্শকের পাশাপাশি অনেক তারকারও প্রিয় অভিনয়শিল্পী তিনি। তবে এই নিখুঁত অভিনয় দক্ষতা তার একদিনে হয়নি। ছোটবেলা থেকেই বাবার থিয়েটার দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপর্ণা। অভিনয় করেছেন বেশ কিছু সাড়া জাগানো মঞ্চ নাটকে। নিজের অভিনয় প্রতিভা আরও বেশি মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতেই নাম লিখিয়েছিলেন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে আস্তে ধীরে মিডিয়ার নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন, যা অনেক তরুণের অনুপ্রেরণার জায়গা হতে পারে।

বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অপর্ণা বলেন, ‘খন্ড-নাটকই বেশি করছি। পাশাপাশি আমার অভিনীত পাগলা হাওয়া নামের একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে বাংলাভিশনে। নতুন সিনেমায়ও যুক্ত হয়েছি। সব মাধ্যমেই মানসম্মত কাজ করার চেষ্টা করছি।’

এই তো গত ১৯ তারিখে নেপাল থেকে ৬টি খন্ড-নাটকের শ্যুটিং শেষ করে দেশে ফিরেছেন। কয়েক দিন ছুটি কাটিয়ে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন তিনি। নেপালে করা কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে এই তারকা বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মতো ছিলাম নেপালে। মোট ৬টি খ-নাটক করেছি। এর মধ্যে দুটির পরিচালক সকাল আহমেদ, বাকি চারটি নির্দেশনা দিয়েছেন সরদার রোকন। একটি টিম নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম। ফলে সবকটি নাটকেই আমার কো-আর্টিস্ট একই রকম। সজল, কল্যাণ আর নিলয় ছিলেন আমার বিপরীতে। এ ছাড়া সহশিল্পী হিসেবে আরও ছিলেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, শবনম ফারিয়া, আজমেরী আশা প্রমুখ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহশিল্পী আর নির্দেশক একই হলেও নাটকগুলোতে আমার অভিনীত প্রতিটি চরিত্রে ভিন্নতা রয়েছে। নয়তো এতগুলো কাজ করতাম না। কোনোটিতে অসম বয়সী লোকের সঙ্গে সংসার করছি, কোনোটাতে ফেইসবুকে প্রেম করে নারী পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েছি আবার কোনোটাতে সফল পেশাজীবী নারী। ফলে কাজগুলো করতে ক্লান্তি লাগেনি। তা ছাড়া লোকেশনেও বেশ ভিন্নতা পাবেন দর্শক।’

বর্তমানে অপর্ণা যে একটিমাত্র ধারাবাহিক নাটক করছেন তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন টিভির চেয়ে মনে হচ্ছে ইউটিউবে বেশি নাটক দেখছেন দর্শক। সেটা হোক খ-নাটক বা ধারাবাহিক। কিছুদিন আগে ফ্লাইটে একজন দর্শকের সঙ্গে দেখা। তিনি বলছেন, আমার অভিনীত প্রচার শেষ হওয়া মওকা মালয়েশিয়া ধারাবাহিকটি তিনি নিয়মিত ইউটিউবে দেখেন। নাটকের পরিণতি কী হলো তা জানার আগ্রহ রয়েছে তার। ফলে কোন নাটকের কেমন সাড়া আসছে তা জানা যায় এই ফেইসবুক, ইউটিউব থেকেই। সেদিক বিবেচনায় পাগলা হাওয়ার বেশ ভালোই সাড়া মিলছে। কারণ এই নাটকটি কমেডিনির্ভর। যে বাড়িটিতে পাগলা গারদ করা হয়, আমি সেই বাড়িটির বাড়িওয়ালার মেয়ে। অনেক মজার মজার ঘটনা ঘটতে থাকে নাটকে।’ 

এদিকে, আবারও বড় পর্দার মিশনে নেমেছেন অপর্ণা। তার ‘ভুবন মাঝি’ সিনেমার পরিচালক ফখরুল আরেফিনের দ্বিতীয় চলচ্চিত্রও আছেন অপর্ণা। এর নাম ‘গন্ডি’। সিনেমাটি নিয়ে অপর্ণা বলেন, ‘এই সিনেমার কাহিনী একেবারেই এ সময়ের গল্প নিয়ে। এর বেশি বলার সময় এখনো আসেনি। শুধু এটুকু বলতে চাই মাত্র দুদিন শ্যুটিং করেছি লন্ডনে। বাকি কাজ আগস্টে শুরু হবে বাংলাদেশেই। এ সিনেমায় সুবর্ণা মুস্তাফা, কলকাতার সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো গুণী অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করব। আমি খুবই এক্সাইটেড। চরিত্র নির্মাণের জন্য শ্যুটিংয়ের এক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ চরিত্রটা একটু আলাদা। গল্পটা আমাকে টেনেছে বেশি। ছবিটি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা পরিচালকের।’

এসব তো গেল কাজের কথা, এবার আসা যাক এই লাক্স তারকার ব্যক্তিজীবনে। বর্তমানে তার রিলেশন স্ট্যাটাস কী জানতে চাইলে অপর্ণা একগাল হেসে বলেন, ‘সম্পর্ক ছাড়া কেউ বাঁচতে পারে? আমি সারা দিন কাজ শেষে একটি আশ্রয় খুঁজি যেখানে মনের সব কথা বলা যায়, প্রশ্রয় পাওয়া যায়। অবশ্যই আমি একজনকে ভালোবাসি। তবে কাকে তা এখনো বলার সময় আসেনি। এখন শুধুই ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি। বিয়ে করলে অবশ্যই সবাইকে জানিয়েই করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত