মেয়রের সাক্ষাৎকার

বারবার সময় চান সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১৬ এএম

‘পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন ও কারখানা সরাতে ২০১৬-১৭ সালেই উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রীর (সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু) কাছে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের নেতারা সময় চেয়েছিলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সেই সময় অভিযান বন্ধ রেখেছি। তখন যদি অভিযান চলত তাহলে হয়তো আজকে পরিস্থিতি হতো না।’

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির জন্য শোক প্রকাশ করে গতকাল দেশ রূপান্তরকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন এই তথ্য জানান। মেয়র হিসেবে দায় এড়াতে পারেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে খোকন বলেন, আমরা আন্তরিক। গত মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আমরা অভিযান শুরু করেছিলাম। আবার রবিবার থেকে অভিযান হওয়ার কথা। এর মধ্যেই বিপর্যয়। আমরা এবার আটঘাট বেঁধেই নেমেছিলাম। আমার মনে হয় যদি আরেকটু সময় পেতাম এই বিপর্যয় হতো না।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, অভিযান শুরু করার আগে আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একমত হয়েছি যে, ২৯টি কেমিক্যাল অত্যন্ত দাহ্য। এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো থেকে যেকোনো সময় অগ্নিকান্ড ঘটতে পারে। যেসব দোকান বা গোডাউনে এসব কেমিক্যাল পাওয়া যাবে, ভ্রাম্যমাণ আদালত সেগুলোকে সিলগালা করে দেবে।

ব্যবসায়ীদের বলেছি, যে কেমিক্যালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ নয় সেগুলো স্যাম্পল হিসেবে দোকানে সাজাবেন। অতিরিক্ত কেমিক্যাল বোঝাই করবেন না। যেগুলো বিক্রি করবেন সেগুলো আশপাশে না রেখে একটু দূরে কোথাও গোডাউন করে রাখবেন। সেখান থেকে সাপ্লাই দেবেন। সাঈদ খোকন বলেন, এলাকাবাসীকে অনেক সচেতন করা হয়েছে। এখন বাড়িওয়ালারা যদি লুকিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা করে কতটা পাহারা দেওয়া যাবে। জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

ভোটের কারণে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে কি না এই প্রশ্নে মেয়র বলেন, অনেকবার চেষ্টা করেও আমি কাজ করতে পারিনি। আমি জনগণের সেবা করি। এখানে ভোটের কোনো বিষয় জড়িত নয়। ২০১০ সালে নিমতলীতে কেমিক্যালের কারখানা থেকে আগুনের ঘটনার নয় বছর পরও সিদ্ধান্ত কেন বাস্তবায়ন হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমি বারবার উদ্যোগ নিয়েছি। রাজউক, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে অভিযানের সময় ঠিক করেছি। এ সময় শিল্পমন্ত্রী ও এফসিসিআইয়ের নেতারা আমাকে অনুরোধ করেছেন, তাদের একটু সময় দিতে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, কেরানীগঞ্জের বিসিকে কেমিক্যাল কারখানার জন্য যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল সেখানে জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। কেরানীগঞ্জের প্রজেক্টটি দেরি হওয়ায় আমাদের অভিযানে সময় লেগেছে।

মেয়র বলেন, এক সপ্তাহ আগে দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানাগুলোতে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার অভিযান শুরুর দিনে নিষিদ্ধঘোষিত কোনো কেমিক্যাল না পাওয়ায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করে দেওয়া হয়।

২০১০ সালে নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকা- এবং পরবর্তী সময়ে আরও কিছু অগ্নিকান্ডের পর পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানাগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দীর্ঘদিন বন্ধ রাখে ডিএসসিসি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি কেমিক্যাল ও প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশন, এফবিসিসিআই এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি সভা হয়। ক্ষতিকর কেমিক্যাল না রাখার শর্তে কারখানাগুলোকে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়।

সাঈদ খোকন বলেন, চকবাজারের ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন এবং কারখানা সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে। গত দুদিন ধরে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সবার সঙ্গে সভা হয়েছে। হোমওয়ার্ক চলছে, দ্রুত আমরা মাঠে নামব।

নিষিদ্ধঘোষিত কেমিক্যালগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলোÑ ইথাইল অ্যালকোহল, ২-ইথাইল অ্যালকোহল, আইএসও, প্রোপাইল অ্যালকোহল, এমইকে, এমআইবিকে, থিনাইয়ার বি, ডাই এসিটোন অ্যালকোহল ইত্যাদি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত