চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কর্ণফুলীর টানেল খননসহ ২ প্রকল্পের উদ্বোধন কাল

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪৫ এএম

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেলের খননকাজসহ চট্টগ্রামের বহুল প্রত্যাশিত দুই প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামীকাল রবিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের খনন কার্যক্রম এবং নগরের লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী টানেলের বোরিং কার্যক্রম ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের মাধ্যমে এবং সুইচ চেপে এই দুটি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করবেন বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সুধী সমাবেশ উপলক্ষে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৮ ফুট প্রস্থের নৌকা আকৃতির একটি মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে চীনের এক্সিম ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘মাল্টি লেন রোড টানেল আন্ডার রিভার কর্ণফুলী’ শীর্ষক প্রায় ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবার শুরু হবে এর খননকাজ।

খননকাজের জন্য চীন থেকে আনা টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। দেশের প্রথম এই টানেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ চৌধুরী।

চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পটির কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা করা হয়। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেবে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বাকি অর্থ আসবে সরকারি তহবিল থেকে। চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলীর তলদেশ হয়ে আনোয়ারা পর্যন্ত এ টানেল নির্মাণ প্রকল্পের মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩১৫ কিলোমিটার।

অন্যদিকে নগরের লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের আওতায় ৯টি জংশনে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ২৪টি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে আড়াই হাজার এলইডি লাইট। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে বলে জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত