পতেঙ্গায় প্রস্তুত নৌকা আকৃতির মঞ্চ

চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের দুই প্রকল্পের উদ্বোধন আজ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:০০ এএম

চট্টগ্রামবাসীর বহুল প্রত্যাশিত কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের খনন কার্যক্রম ও চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন আজ রবিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্পিউটারের মাধ্যমে ও সুইচ চেপে এই দুই মেগা প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করবেন। পরে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পার্শ্ববর্তী রিং রোড এলাকায় ৪৮ ফুট লম্বা ও ২৮ ফুট চওড়া নৌকা আকৃতির মঞ্চে আয়োজিত সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন তিনি।চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেলের খননকাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত সেই স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন। এই টানেল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রাম আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি গড়ে উঠবে শিল্প প্রতিষ্ঠান, যেখানে সৃষ্টি হবে অধিক কর্মসংস্থান।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য অনেক বড় বড় মেগা প্রকল্প দিয়েছেন। পাশাপাশি নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পতেঙ্গার রিং-রোডে নৌকা আকৃতির বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। উজ্জীবিত রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।’

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই বর্তমান সরকার গঠনের পর প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম আসছেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী ১৩ হাজার কোটি টাকার দুই প্রকল্পের মধ্যে টানেলের মূল খননকাজ ও সিডিএর নেওয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাইলিং কাজের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রামবাসী আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।’ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইলিয়াস হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কার্যক্রম ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসবেন। উদ্বোধনী কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন। এই লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ সার্ক দেশগুলোর মধ্যে এটাই প্রথম। চীনের এক্সিম ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘মাল্টি লেন রোড টানেল আন্ডার রিভার কর্ণফুলী প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রায় ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সরকার। চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলীর তলদেশ হয়ে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল নির্মাণ প্রকল্পের মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩১৫ কিলোমিটার।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পটির কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেবে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বাকি অর্থ আসবে সরকারি ফান্ড থেকে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। গত বছরের ১১ জুলাই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের আওতায় ৯টি জংশনে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ২৪টি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত