সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ নিহতদের পরিবারের

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৮ এএম

পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের চার দিন অতিবাহিত হয়েছে। ৬৭ লাশের মধ্যে চিহ্নিত হওয়া ৪৮ লাশের দাফনও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে ঘোষিত সহায়তা এখনো পায়নি বলে অভিযোগ করেছে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।

ওই পরিবারগুলোর কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করে জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গ থেকে লাশ আনার সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর আর কেউ খবরও রাখছে না তাদের। অগ্নিকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢামেক হাসপাতালে দগ্ধদের দেখতে এসে ঘোষণা দেন, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ করে টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারের অন্য মন্ত্রীরাও সহায়তার আশ্বাস দেন। তবে কেউই এখনো আশ্বাস অনুযায়ী সহায়তা করেনি।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে আহত শ্রমিকদের ৫০ হাজার ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে অনুদানের কথা বলা হয়। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢামেকে দগ্ধ সাত শ্রমিককে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা করা হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান সহায়তা প্রদান করার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব শ্রমিক নিহত হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা করা হবে।’ এর আগে গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নয় ও জরুরি বিভাগের দুজনকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবারের ঘটনায় নিহত আলী হোসেনের ছেলে মাহফুজ জানান, তার বাবার দাফন গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে সম্পন্ন হয়েছে। লাশ আনার সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ছাড়া আর কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি। কেউ একটু খবরও নিচ্ছে না। তিনি আরও জানান, গত শনিবার চকবাজার থানা থেকে ফোন করে বলা হয়, তার বাবার কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও ১৯২ টাকা থানায় রয়েছে। সে সময় এগুলো নিয়ে যেতে বলা হয়।

নিহত মো. আলী ও অপুর বোন জুরিনা বেগম জানান, তারা এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছেন। তার নিহত ভাই আলীর স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অপুরও একটি ছয় মাসের শিশু আছে। তারা এখন অন্ধকার দেখছেন।

নিহত হীরার মামা মো. ইউসুফ বলেন, নোয়াখালীর নাগেশ্বরীতে হীরার লাশ দাফন হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দেওয়া টাকা ছাড়া আর কোনো সহায়তা পাননি তারা।

নিহত আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ভগ্নিপতি মেজবাহুর রহমান বলেন, লাশের দাফন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার মির্জানগরে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত