দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রবাসী প্রকৌশলীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। অনাবাসী প্রকৌশলীরা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, শিল্পোৎপাদন, যোগাযোগ এবং সমুদ্রসম্পদ আহরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারেন। তারা পলিসি লেভেল চ্যালেঞ্জ এবং ইনস্টিটিউশন লেভেল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে পারেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনাবাস (এনআরবি) প্রকৌশলীদের প্রথম কনভেনশনের উদ্বোধনকালে একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অংশ নেন।
প্রবাসীদের সুবিধার জন্য তিনটি ব্যাংক করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গার্মেন্টসে আমরা দ্বিতীয় এটা ঠিক। কিন্তু একটা পণ্যের ওপর নির্ভর করে একটা দেশ চলতে পারে না। আমাদের রপ্তানি পণ্যকে বহুমুখীকরণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, উন্নয়নটা শুধু শহর বা রাজধানীভিত্তিক না। একেবারে গ্রাম পর্যন্ত উন্নয়ন করতে চাই। আপনারা যার যার অঞ্চল কীভাবে উন্নয়ন করতে পারেন সেদিকেও নজর দেবেন। বিদেশে আছেন এটা ঠিক, কিন্তু এই মাটির সন্তান আপনারা। এই দেশ এই মাটি ও মানুষ এটাই আপনাদের মূল জায়গা। এটাই আপনাদের শিকড়। আর এই শিকড়ের সন্ধানেই আপনারা আজকে এসেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার গত ১০ বছরে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃত। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। তিনি বলেন, জনগণের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮৬-তে উন্নীত হয়েছে। একে সরকার দুই অঙ্কে নিয়ে যেতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই সময়ে দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এখন উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করছে। কখনো আর কারো কাছে হাত পাততে না হয়। প্রধানমন্ত্রী মেধা পাচার প্রসঙ্গে বলেন, একটা কথা সব সময় বলা হয় যে, ব্রেইন ড্রেইন। আমি সেটা মনে করি না। বরং আমাদের দেশে তো লোকের অভাব নেই, যুবসমাজের অভাব নেই। আমরা যদি তাদের সুশিক্ষিত করতে পারি, তাহলে তারা দেশে থেকেই দেশের উন্নয়ন করতে পারেন। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশটাকে যদি দেখেন তাহলে অবশ্যই সেটা সম্ভব বলে আপনারাও মেনে নেবেন। তিনি এ সময় বলেন, বিদেশে যারা লেখাপড়া করতে গিয়ে থেকে যান বা বিভিন্ন ব্যবসায়িক কারণে বা কর্মসূত্রে বিদেশে গিয়ে যারা প্রবাসী হয়ে যান, তারা যে অভিজ্ঞতাটা সঞ্চয় করেন, তার মূল্যও কম নয়।
শেখ হাসিনা বহুমুখী পণ্য রপ্তানি করার কথা বলেন। তিনি দেশের দ্রুত উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা ম্যাস-র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালীর মাতারবাড়ীর সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম, পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন স্থাপন এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ।
২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ়প্রত্যয়ও জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং ব্রিজ টু বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আজাদুল হক বক্তব্য দেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মনোয়ার আহমেদ স্বাগত বক্তব্য দেন।
