স্যামসাংয়ের ‘গ্যালাক্সি ফোল্ড’ ঘোষণা দিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। চীনের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা হুয়াওয়ে আগেই জানায়, ২০১৯ সালে বার্সেলোনার মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে আসবে ‘মেট এক্স’। দুটি ফোনই ফাইভজির সুবিধা রেখেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য এখন বাজার দখলের।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেট জানিয়েছে, স্যামসাংয়ের ফোনটিতে ফোরজি অথবা ফাইভজি ব্যবহার করা যাবে। সামনে-পেছনে রয়েছে ছয়টি ক্যামেরা। মেট এক্সে শুধু ফাইভজি সুবিধার সঙ্গে ক্যামেরা থাকছে চারটি। তাদের দাবি, ভাঁজ করা ফোনের ভেতর মেট এক্স সবচেয়ে দ্রুত কাজ করবে। এই দাবির সত্যতা পেতে অবশ্য দেরি করতে হবে। কেননা, ফাইভজি এখনো কোনো দেশে শক্তিশালী অবস্থায় যাত্রা শুরু করেনি।
গ্যালাক্সি ফোল্ডের বৃহত্তম স্ক্রিনটি রাখা হয়েছে ভেতরে। বাইরের কভার এটিকে আটকে রাখে। হুয়াওয়ের মেট এক্স এই দিক থেকে একটু আলাদা। ফ্রেমের সঙ্গে রাখা হয়েছে স্ক্রিন। এর সুবিধা হলো, এক স্ক্রিনকে তিনভাবে ব্যবহার করা যায়।
স্ক্রিন : গ্যালাক্সি ফোল্ডের বাইরের স্ক্রিনটি ৬ দশমিক ৪ ইঞ্চি। ভেতরেরটি ৭ দশমিক ৩ ইঞ্চি। অন্যদিকে হুয়াওয়ের মেট এক্সে আছে ৮ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে। ক্লোজড পজিশনে সামনের স্ক্রিন ৬ দশমিক ৬ ইঞ্চি। একই পজিশনে পেছনের স্ক্রিন ৬ দশমিক ৩৮ ইঞ্চি।
নচ বনাম উইং :
আধুনিক যুগের অধিকাংশ ফোনের ডিসপ্লের ওপরের অংশে ক্যামেরা, স্পিকারকে জায়গা দিতে খাঁজ রাখা হয়। একে বলা হয় নচ। গ্যালাক্সি ফোল্ডের ৭ দশমিক ৩ ইঞ্চির স্ক্রিনে মোটামুটি চওড়া নচ আছে। এই কালো অংশটুকু দুটি ক্যামেরার লেন্স এবং একটি সেন্সরকে জায়গা দিয়েছে।
অন্যদিকে মেট এক্সের ৮ ইঞ্চির ডিসপ্লে নচমুক্ত। কিন্তু পেছনে একটি স্ট্রিপ রাখা হয়েছে, যেখানে ক্যামেরার লাইনআপ এবং বাঁকা ‘উইং’ রাখা হয়েছে। উইং হচ্ছে ছোট একটি পাখার আকৃতি, যেটি হাতে ধরার মতো ব্যবহার করা যায়।
উইংকে বলা হচ্ছে ‘চালাকি’ নকশা। প্রথম দেখায় মনে হয় এটি বুঝি হাত দিয়ে ধরার জন্য রাখা হয়েছে, আসলে তা নয়। এটি মূলত খোলার সময় ব্যবহার করার জন্য রাখা হয়েছে। এটির কারণে পাশে ক্রপিং করা ছাড়াই সহজে খোলা যায়।
ক্যামেরার বিস্তারিত :
স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোল্ডে ছয় ক্যামেরার তিনটি পেছনে, দুটি সামনে, একটি কভারে।
হুয়াওয়ে জানিয়েছে তারা এখন যে ভাঁজ করা ফোনটি দেখাচ্ছে, সেটি তিন ক্যামেরার। মার্চে আরেকটি বাজারে আসবে, সেটিতে চারটি ক্যামেরা থাকবে।
দাম ও বিক্রির সময় :
গ্যালাক্সি ফোল্ড নির্দিষ্ট কিছু দেশে পাওয়া যাবে। আমেরিকা বাদে অন্য কোনো দেশের নাম জানা যায়নি। এই ফোনটি ২৬ এপ্রিল থেকে বাজারে আসার কথা। প্রাথমিকভাবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
হুয়াওয়ে মেট এক্সের দাম পড়বে ২ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এটি বাজারে আসবে জুন অথবা জুলাইয়ে। এটি কোন কোন দেশে পাওয়া যাবে সেটি এখনো জানানো হয়নি ফাইভজির অনিশ্চয়তার কারণে।
