মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়েছে, অস্বস্তিমাছ-মাংসেও

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩৬ এএম

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় শাক-সবজির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও অস্বস্তি কাটছে না মাছ-মাংসে। টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। পিকনিক, পার্টি ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সরবরাহের কারণে মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের প্রশ্ন, একই অজুহাতে আর কত দিন চড়া দামে কিনতে হবে মাছ-মাংস?

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। এর প্রভাবে বেড়েছে লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক মুরগির দামও। সেই সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। তবে বাজারগুলোতে অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, চিনি, আটা, গুঁড়া দুধসহ সব ধরনের মুদি পণ্যের দাম।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিকেজি নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০, মিনিকেট ৫৫-৫২, স্বর্ণা ৩৫-৩৮, বিআর-২৮ নম্বর ৩৮ টাকা। শুক্রবার লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮০-২০৫ টাকা কেজি দরে, যা গত জানুয়ারিতে ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। আর এক মাস আগে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৭০ টাকায়। কারওয়ান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পিকনিক, বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে বাজারে মুরগির যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, সে হারে ফার্ম থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণেই হয়ত মুরগির দাম বেড়েছে। আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দামেই মুরগি কিনছি পাইকারদের কাছ থেকে।’

দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৫ টাকায়। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা রুবেল বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ রাস্তায় পচে গেছে। শুক্রবার বাজারে আসার পর অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে দামও বেড়েছে। তা ছাড়া নতুন পেঁয়াজ আসার আগে পেঁয়াজের দাম এমনই থাকে।’

গত এক মাস ধরে কিছুটা হলেও স্বস্তি গেছে শাক-সবজির দামে। টমেটো, বেগুন, গাজর, মুলা, শালগম, শিম, নতুন আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাল শাক, পালং শাকসহ প্রায় সব ধরনের শাক-সবজি সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ২০-৩০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বেগুন, শালগম, মুলা, পেঁপে ও শিম। প্রতি পিস ফুলকপি ১৫-২৫, বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। পাকা টমেটো পাওয়া যাচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজিতে। নতুন আলু ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। স্বস্তি মিলছে কাঁচামরিচেও। এক কেজি কিনতে হলে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৭০ টাকা।

পালং শাক বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা আঁটি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল ও সবুজ শাক। লাউ শাক পাওয়া যাচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। তবে করলা, ধুন্দুল, লাউ, ঢেঁড়সের দাম বেশ চড়া। লাউ (প্রতি পিস) ৫০-৭০, করলার কেজি ৬০-৭০, ঢেঁড়স ৬০-৭০, ধুন্দুল বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকায়।

এদিকে মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২০ টাকা। আর হালিতে বেড়েছে ৮ টাকা। জানুয়ারিতে ৮০-৮৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিমের দাম এখন ১০০-১০৫ টাকা। আর মুদি দোকানে প্রতিটি ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে ৯-১০ টাকায়, যা জানুয়ারিতে ছিল ৭-৮ টাকা।

বাজারে এখন সব ধরনের মাছের দাম বেশ চড়া। প্রতি কেজি রুই ২৫০-৫০০, পাবদা ৫০০-৭০০, টেংরা ৫০০-৭০০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, পাঙ্গাশ ১৫০-১৮০, শিং ৪০০-৬০০, বোয়াল ৫০০-৮০০, চিতল মাছ বিক্রি হয়েছে ৫০০-৮০০ টাকায়।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত